ভারতের বক্স অফিসে দারুণ সাড়া ফেলেছে দক্ষিণী তারকা যশ অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘টক্সিক’। মুক্তির প্রথম দিনেই ভারতে সিনেমাটি প্রায় ১১৭ কোটি রুপি আয় করেছে বলে ভারতীয় বক্স অফিস বিশ্লেষণভিত্তিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
মুক্তির প্রথম দিনে ভারতে ১০০ কোটি রুপির বেশি আয় করা সিনেমার তালিকায় ‘টক্সিক’ এখন ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। তবে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর প্রিভিউ শোর আয়ও হিসাবে ধরলে তালিকায় এটি সপ্তম সিনেমা হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছে।
উত্তর ও দক্ষিণ ভারত—দুই অঞ্চলেই সিনেমাটি শক্তিশালী সূচনা করেছে। বড় বাজেটের সিনেমার প্রথম দিনের আয়ে সাধারণত তেলেগু রাজ্যগুলোর বড় ভূমিকা থাকে। তবে ‘টক্সিক’-এর ক্ষেত্রে তেলেগু রাজ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ছাড়াই দেশজুড়ে ভালো ব্যবসা করেছে সিনেমাটি।
সবচেয়ে বড় চমক এসেছে যশের নিজ রাজ্য কর্ণাটকে। সেখানে প্রথম দিনে প্রায় ২৮ কোটি ৫০ লাখ রুপি আয় করেছে ‘টক্সিক’। এর মধ্য দিয়ে কর্ণাটকে প্রথম দিনের আয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছে সিনেমাটি। এর আগে যশের ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’ প্রথম দিনে ২৪ কোটি ৫০ লাখ রুপি আয় করে রেকর্ডটি ধরে রেখেছিল।
দক্ষিণ ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও সিনেমাটির ব্যবসা ছিল ভালো। অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানায় প্রথম দিনে প্রায় ১৮ কোটি রুপি আয় করেছে এটি। তামিলনাড়ু ও কেরালাতেও দর্শকদের কাছ থেকে সন্তোষজনক সাড়া পেয়েছে সিনেমাটি। স্থানীয় সিনেমার সঙ্গে প্রতিযোগিতা থাকা সত্ত্বেও কেরালায় ভালো ব্যবসা করেছে ‘টক্সিক’।
তবে প্রথম দিনের আয়ে সবচেয়ে বড় অবদান এসেছে হিন্দি সংস্করণ থেকে। শুধু হিন্দি ভার্সনেই প্রায় ৫৩ কোটি রুপি আয় করেছে সিনেমাটি। দক্ষিণ ভারতে হিন্দি সংস্করণের সীমিত অবদান বিবেচনায় নিলে প্রকৃত আয় প্রায় ৬০ কোটি রুপির কাছাকাছি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অবশ্য সিনেমাটির বক্স অফিসের কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে অসামঞ্জস্যের কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সংগ্রহের এই ব্যবধানের পেছনে বাইরের কোনো প্রভাব রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে এসব বিষয় বাদ দিলেও প্রথম দিনের আয়কে অসাধারণ সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এদিকে দুর্দান্ত উদ্বোধনের পরও সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে ‘টক্সিক’-এর। মুক্তির পর সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের একাংশের কাছ থেকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটির আগাম টিকিট বিক্রিতেও। শুরুতে অগ্রিম বুকিং দুর্বল থাকলেও পরে কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
ফলে দ্বিতীয় দিনে আয় কিছুটা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এরপর সপ্তাহান্তে সিনেমাটি কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
কারণ ‘টক্সিক’ একটি বড় বাজেটের সিনেমা। পরিবেশকদের বড় একটি অংশের সঙ্গে অগ্রিম অর্থের ভিত্তিতে চুক্তি হয়েছে। পাশাপাশি বক্স অফিস আয়ের সঙ্গে নন-থিয়েট্রিক্যাল স্বত্বের চুক্তিও জড়িত। ফলে শেষ পর্যন্ত সিনেমাটির ব্যবসার ঝুঁকির বড় অংশ প্রযোজকদের ওপরই থাকবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









