সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রিলসে ‘বুম্বাস্টিক’ গানটি শুনেছেন অনেকেই। তিন দশক আগে প্রকাশিত গানটির নতুন সংস্করণও কয়েক বছর আগে ইন্টারনেটে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তবে এই গানের পেছনের শিল্পী শ্যাগিকে কতটা চেনেন শ্রোতারা? জ্যামাইকান-আমেরিকান এই গায়ক শুধু ‘বুম্বাস্টিক’ নয়, আরও বেশ কিছু জনপ্রিয় গান উপহার দিয়ে বিশ্বসংগীতে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন।
শ্যাগির আসল নাম অরভিল রিচার্ড বারেল। ১৯৬৮ সালের ২২ অক্টোবর জ্যামাইকার রাজধানী কিংস্টনে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। জনপ্রিয় কার্টুন ‘স্কুবি-ডু’র শ্যাগি চরিত্র থেকে ছোটবেলায় তার এই ডাকনাম আসে। পরবর্তী সময়ে সেই নামেই সংগীতজগতে পরিচিতি পান তিনি।
১৮ বছর বয়সে মায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পাড়ি জমান শ্যাগি। সেখানে ড্যান্সহল সংগীতে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার চেষ্টা শুরু করেন। তবে সংগীতের পাশাপাশি তার জীবনে ছিল সামরিক বাহিনীর অধ্যায়ও। ১৯৮৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোরে যোগ দেন তিনি। উপসাগরীয় যুদ্ধের সময়ও দায়িত্ব পালন করেন এই শিল্পী।
একসময় সংগীতকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন শ্যাগি। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে গানে মনোযোগী হওয়ার পর ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত ‘ওহ ক্যারোলিনা’ গানটি তাকে প্রথম বড় সাফল্য এনে দেয়। পুরোনো স্কা গানটিকে ড্যান্সহলের আধুনিক ছন্দে নতুনভাবে উপস্থাপন করে শ্রোতাদের নজর কাড়েন তিনি।
এরপর ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয় তার ‘বুম্বাস্টিক’ গানটি। গানটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শ্যাগির পরিচিতি আরও বাড়িয়ে দেয়। একই নামের অ্যালবামের জন্য সেরা রেগে অ্যালবাম বিভাগে গ্র্যামি পুরস্কারও জেতেন তিনি।
শ্যাগির ক্যারিয়ারে আরেকটি বড় সাফল্য আসে ২০০০ সালে। সে বছর প্রকাশিত ‘হট শট’ অ্যালবামের ‘ইট ওয়াজন্ট মি’ ও ‘অ্যাঞ্জেল’ গান দুটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং আন্তর্জাতিক সংগীত তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করে। রেগে ও ড্যান্সহলের সঙ্গে পপ সংগীতের মিশেলে তৈরি তার গান বিভিন্ন দেশের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে যায়।
২০১৮ সালে ব্রিটিশ সংগীত তারকা স্টিংয়ের সঙ্গে যৌথভাবে ‘৪৪/৮৭৬’ অ্যালবামে কাজ করেন শ্যাগি। অ্যালবামটি ২০১৯ সালে গ্র্যামি পুরস্কার জেতে। দীর্ঘ সংগীতজীবনে তিনি মোট আটবার গ্র্যামি মনোনয়নও পেয়েছেন।
এ পর্যন্ত শ্যাগির ১৬টি স্টুডিও অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে প্রকাশিত হয়েছে তার ১৬তম অ্যালবাম ‘লটারি’।
সংগীতের বাইরেও মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন এই শিল্পী। ‘শ্যাগি মেক আ ডিফারেন্স ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে জ্যামাইকার শিশুদের চিকিৎসাসেবায় সহায়তা করে আসছেন তিনি। জনপ্রিয় গানের পাশাপাশি নিজের দেশের মানুষের জন্য কাজ করার মধ্য দিয়েও শ্যাগি রেখে চলেছেন আলাদা পরিচয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









