হলিউডের অন্যতম আকাঙ্ক্ষিত চরিত্র জেমস বন্ড। এই চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়া যেকোনো অভিনেতার জন্য বড় অর্জন। বর্তমানে ড্যানিয়েল ক্রেগের পর কে হবেন পরবর্তী বন্ড, তা নিয়ে চলছে জল্পনা। গুঞ্জন রয়েছে, পরিচালক ডেনিস ভিলনভের তত্ত্বাবধানে নতুন বন্ড খোঁজার প্রক্রিয়া চলছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় আলোচনায় রয়েছেন জ্যাক লাউডেন, ক্যালাম টার্নার ও জশ ও’কনর।
তবে বন্ড হওয়ার দৌড়ে শেষ পর্যন্ত একজনই নির্বাচিত হন। অতীতে এই চরিত্রের জন্য অডিশন দিয়েও বাদ পড়েছেন এমন কয়েকজন অভিনেতা, যাঁরা পরে নিজেরাই তারকাখ্যাতি পেয়েছেন।
জেমস ব্রোলিন
১৯৮২ সালে রজার মুরের অবসরের সম্ভাবনা দেখা দিলে বন্ড নির্মাতারা মার্কিন অভিনেতা জেমস ব্রোলিনকে নিয়ে ভাবেন। তখন তাঁর বয়স ৪২ বছর। ‘দ্য অ্যামিটিভিল হরর’ সিনেমার জন্য পরিচিত ব্রোলিন কয়েক দিন ধরে অডিশন দেন। ‘ফ্রম রাশিয়া উইথ লাভ’ সিনেমার প্রলোভনমূলক দৃশ্যের পাশাপাশি লড়াইয়ের দৃশ্যেও নিজের দক্ষতা দেখান। শেষ পর্যন্ত রজার মুর আবার বন্ডের চরিত্রে ফিরতে রাজি হওয়ায় সুযোগটি হাতছাড়া হয় ব্রোলিনের।
স্যাম নিল
১৯৮৬ সালে ‘দ্য লিভিং ডে-লাইটস’ সিনেমার জন্য নতুন বন্ড খোঁজা হচ্ছিল। তালিকায় ছিলেন নিউজিল্যান্ডের অভিনেতা স্যাম নিল। পরিচালক জন গ্লেন নিলকে পছন্দ করলেও প্রযোজক কাবি ব্রকলি তাঁর বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত বন্ড হন টিমোথি ডালটন। পরে ‘জুরাসিক পার্ক’ সিনেমায় অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান নিল।
হেনরি ক্যাভিল

২০০৫ সালে ‘ক্যাসিনো রয়্যাল’-এর বন্ড হওয়ার দৌড়ে ছিলেন তরুণ হেনরি ক্যাভিল। পরিচালক মার্টিন ক্যাম্পবেল তাঁর অডিশনের প্রশংসা করেছিলেন। তবে বয়স কম হওয়ায় তাঁকে নির্বাচিত করা হয়নি। চরিত্রটি পান ড্যানিয়েল ক্রেগ। সাত বছর পর সুপারম্যানের চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পান ক্যাভিল।
অ্যান্টনি স্টার ও রুপার্ট ফ্রেন্ড
২০০৫ সালে বন্ডের অডিশন দিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের অভিনেতা অ্যান্টনি স্টারও। পরে ‘দ্য বয়েজ’ সিরিজে হোমল্যান্ডার চরিত্রে অভিনয় করে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান তিনি। একই বছর অডিশন দেন রুপার্ট ফ্রেন্ড। বন্ড হতে না পারলেও পরে ‘প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’ ও ‘হোমল্যান্ড’-এর মতো কাজের মাধ্যমে পরিচিতি অর্জন করেন।
স্যাম ওর্থিংটন
‘অ্যাভাটার’-এর তারকা হওয়ার আগে অস্ট্রেলীয় অভিনেতা স্যাম ওর্থিংটনও ‘ক্যাসিনো রয়্যাল’-এর জন্য অডিশন দিয়েছিলেন। লন্ডনে গিয়ে টাক্সেডো পরে পর্দায় পরীক্ষাও দেন তিনি। পরে ওর্থিংটন জানান, বন্ডের শারীরিক দক্ষতা দেখাতে পারলেও চরিত্রটির মার্জিত আচরণ ও ব্রিটিশ উচ্চারণ আয়ত্ত করা তার জন্য কঠিন ছিল। চার বছর পর ‘অ্যাভাটার’ তাঁকে আন্তর্জাতিক তারকায় পরিণত করে।
বন্ডের চরিত্রটি তাদের কারও ভাগ্যে জোটেনি। তবে তাদের পরবর্তী সাফল্য দেখিয়েছে, একটি চরিত্রে সুযোগ হারানো মানেই তারকাখ্যাতির পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









