জুমার দিন মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ দিন। এ দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো জুমার নামাজ আদায় করা। তাই মুসল্লিদের উচিত সময়মতো মসজিদে গিয়ে জামাতে অংশ নেওয়া এবং ইমামের খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা।
জুমার নামাজের জন্য আগে মসজিদে আসার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিন মসজিদের দরজায় ফেরেশতারা অবস্থান করেন এবং যারা আগে আসেন, তাদের আগমনের ক্রমানুসারে নাম লিখতে থাকেন। ইমাম খুতবার জন্য বের হলে ফেরেশতারা তাদের খাতা বন্ধ করে খুতবা শুনতে থাকেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯২৯)
তবে অনেক সময় দেখা যায়, কেউ দেরিতে এসে বসা মুসল্লিদের ঘাড় ডিঙিয়ে সামনের কাতারে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে অন্য মুসল্লিরা কষ্ট ও বিরক্তির শিকার হন। ইসলামে এভাবে অন্যকে কষ্ট দিয়ে সামনে যাওয়া নিষেধ করা হয়েছে।
একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার খুতবা দিচ্ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি মানুষের ঘাড় ডিঙিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন মহানবী (সা.) তাকে থামিয়ে বলেন, বসো, তুমি মানুষকে কষ্ট দিলে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১১১৮)
এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, অন্য মুসল্লিদের কষ্ট দিয়ে তাদের ওপর দিয়ে বা ঘাড় ডিঙিয়ে সামনে যাওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে খুতবা শুরু হওয়ার পর এমন কাজ করা আরও অনুচিত, কারণ এ সময় মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা জরুরি।
তাই জুমার নামাজে অংশ নিতে মুসল্লিদের যথাসম্ভব আগে মসজিদে পৌঁছানো উচিত। দেরিতে গেলে যেখানে জায়গা পাওয়া যায়, সেখানেই বসে জামাতে অংশ নেওয়া উচিত। অন্যকে কষ্ট দিয়ে সামনের কাতারে যাওয়ার চেষ্টা করা থেকে বিরত থাকাই ইসলামের শিক্ষা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









