নারীর ক্ষমতায়ন ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের উন্নয়নে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ‘ব্রেভ হার্ট অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন সাজিয়া আফরিন সুলতানা। ২০২৬ সালের মিস বাংলাদেশ ইউএসের বাছাইপর্বের সমাপনী উপলক্ষে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ইতিবাচক পরিবর্তনে অবদান রাখার জন্য তার প্রশংসা করেছে আয়োজক সংগঠন।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে মিস বাংলাদেশ ইউএস অর্গানাইজেশন তাদের অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজে সাজিয়া সুলতানা আফরিনের ছবিসহ পুরস্কারে আনুষ্ঠানিক ঘোষনা করে।
মিস বাংলাদেশ ইউএসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক অভিনন্দনবার্তায় সাজিয়ার এই অর্জনের কথা জানানো হয়। তবে পোস্টটিতে পুরস্কার প্রদানের নির্দিষ্ট তারিখ, সময় ও অনুষ্ঠানের স্থান সম্পর্কে ওই ঘোষণায় বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।

আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, জীবনের নানা প্রতিকূলতার মুখেও নিজের অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচক পরিবর্তনের শক্তিতে রূপ দিয়েছেন সাজিয়া। শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত নারী ও শিশুদের জন্য সুযোগ তৈরিতে কাজ করছেন তিনি।
সাজিয়ার এই পথচলাকে সাহস, দৃঢ়তা ও মানবিকতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে সংগঠনটি। তাদের মতে, প্রতিকূলতা অতিক্রম করাই প্রকৃত শক্তির একমাত্র পরিচয় নয়; বরং সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অন্যদের এগিয়ে নেওয়ার মধ্যেও প্রকৃত সাহসের পরিচয় পাওয়া যায়।
পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সাজিয়া আফরিন সুলতানা এদিনকে বলেন, ‘পুরস্কার সবসময়ই আমার জন্য ডোপামিন। সত্যি বলতে আমার এক্স এবং আমাকে ঠকানো কিছু বন্ধুদের দিলাম এই কৃতিত্ব হাহাহা। জীবনে এতো স্ট্রাগল না থাকলে তো এতোদূর আসাই হতো না... ’
এই পুরস্কার কাদের সাথে ভাগ করে নিতে চান এমন প্রশ্নের জবাবে বর্তমানে ফ্রিল্যান্স কন্সাল্ট্যান্ট এন্ড রিসার্চার হিসেবেও কাজ করা আফরিন বলেন, বাংলাদেশের জন্য এবং গোটা পৃথিবীর জন্য নিজের কাজ এবং নিজেকে সবরকম ভালো কিছুর জন্য ডেডিকেট করতে চাই।’
মিস বাংলাদেশ ইউএসের মূলমন্ত্র ‘নারীর ক্ষমতায়ন, জীবনের পরিবর্তন’। সংগঠনটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার পাশাপাশি নারীদের আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বের দক্ষতা ও সামাজিক উদ্যোগ বিকাশে কাজ করে। ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য, বাংলাদেশি নারীদের প্রতিভা ও নেতৃত্বকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরা এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা।

সাজিয়াকে অভিনন্দন জানিয়ে আয়োজকেরা তার অভিজ্ঞতা ও অনুপ্রেরণামূলক গল্প সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সাজিয়ার অভিজ্ঞতা অন্যদেরও প্রতিকূলতা কাটিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









