শৈশবের কত স্মৃতিই না জড়িয়ে থাকে একটি ছোট্ট টেডি বিয়ারের সঙ্গে। কখনো ঘুমের সঙ্গী, কখনো ভয় কাটানোর বন্ধু, আবার কখনো মন খারাপের দিনে মানসিক স্বস্তির উৎস। বয়স বাড়ার সঙ্গে জীবনে অনেক পরিবর্তন এলেও শৈশবের প্রিয় নরম খেলনাটির প্রতি ভালোবাসা রয়ে যায় অনেকেরই। পুরোনো সেই স্মৃতি নতুন করে মনে করার দিন আজ। প্রিয় টেডি বিয়ারকে জড়িয়ে ধরে শৈশবে ফিরে যাওয়ার বিশেষ দিন ‘হাগ আ বেয়ার ডে’।
কেন পালন করা হয় এই দিন?
নাম শুনে মনে হতে পারে, এই দিনে বুঝি বনের ভালুককে জড়িয়ে ধরতে হয়! তবে বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। দিনটি মূলত শিশুদের প্রিয় নরম ও তুলতুলে ভালুক আকৃতির খেলনা, অর্থাৎ টেডি বিয়ারের জন্য উৎসর্গ করা হয়েছে। বনের ভালুককে জড়িয়ে ধরা যেমন বিপজ্জনক, তেমনি এই দিবসের উদ্দেশ্যও তা নয়।
শিশুদের প্রথম দিকের উপহারগুলোর মধ্যে টেডি বিয়ার অন্যতম। ছোটবেলায় অনেকেরই ঘুমানোর সময় পাশে থাকে এই খেলনা। একাকিত্ব কিংবা ভয় কাটাতেও এটি হয়ে ওঠে নির্ভরতার সঙ্গী। বয়স বাড়ার পরও অনেকে শৈশবের প্রিয় টেডি বিয়ারটি যত্ন করে রেখে দেন। কারণ, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে জীবনের অসংখ্য সুন্দর মুহূর্ত।
অনেকের কাছে টেডি বিয়ার কেবল একটি খেলনা নয়, বরং মন খারাপের দিনে মানসিক স্বস্তি পাওয়ার একটি মাধ্যম। তাই দিনটি প্রিয় খেলনাটিকে জড়িয়ে ধরে পুরোনো স্মৃতি মনে করার পাশাপাশি ভালোবাসা প্রকাশেরও একটি উপলক্ষ।
টেডি বিয়ারের প্রচলন কীভাবে?
নরম খেলনার ইতিহাস বেশ পুরোনো। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে ধারণা করা হয়, প্রাচীন মিসরেও নরম খেলনা নিয়ে খেলার প্রচলন ছিল। তবে বর্তমানে পরিচিত তুলতুলে খেলনার জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করে উনিশ শতকের তিরিশের দশকে।
পরিচিত টেডি বিয়ারের যাত্রা শুরু হয় ১৯০২ সালে। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, সে বছর যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্ট শিকারে গিয়ে একটি ছোট ভালুককে গুলি করতে অস্বীকার করেন। এ ঘটনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে একটি ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশিত হয়। পরে সেই ঘটনা থেকেই ‘টেডি বিয়ার’ নামটির প্রচলন শুরু হয়। প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের ডাকনাম ছিল ‘টেডি’। সেখান থেকেই খেলনাটির এমন নামকরণ।
এরপর ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিশুদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে টেডি বিয়ার। বর্তমানে নানা রং, আকার ও নকশার টেডি বিয়ার তৈরি হচ্ছে। শিশুদের পাশাপাশি বড়দের কাছেও এটি বেশ প্রিয়।
যেভাবে উদযাপন করবেন দিনটি
প্রিয় টেডি বিয়ারকে জড়িয়ে ধরেই শুরু হতে পারে দিনের উদ্যাপন। বাড়িতে ছোটবেলার কোনো টেডি বিয়ার থাকলে সেটি বের করে পরিষ্কার করে নিতে পারেন। আবার নিজের জন্য কিংবা প্রিয়জনকে উপহার দিতেও কিনতে পারেন নতুন একটি টেডি বিয়ার।
চাইলে টেডি বিয়ারের জন্য ছোট্ট পোশাক, টুপি কিংবা নানা সাজসজ্জার উপকরণ তৈরি করতে পারেন। খেলনাটির সঙ্গে ছোট্ট কোনো বার্তা বা পছন্দের কথা জুড়ে দিয়ে দিনটিকে আরও স্মরণীয় করে তোলা যায়।
দিনটি উদ্যাপনে খাবারেও রাখা যেতে পারে ভিন্নতা। ভালুকের মুখের আদলে তৈরি করা যায় স্যান্ডউইচ, ফ্রেঞ্চ টোস্ট কিংবা মিষ্টি খাবার। কলার টুকরো দিয়ে ফ্রেঞ্চ টোস্ট সাজিয়ে বানানো যেতে পারে টেডি বিয়ারের মুখ। আবার গলানো চকোলেট ও কাজুবাদাম দিয়ে তৈরি করা যায় ভালুকের থাবার মতো দেখতে মিষ্টি।
শিশুদের নিয়ে এসব খাবার তৈরির আয়োজন করলে আনন্দ বাড়বে আরও কয়েক গুণ। পাশাপাশি বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আয়োজন করতে পারেন ছোট্ট টেডি বিয়ার পার্টি। সবাই নিজের পছন্দের নরম খেলনা নিয়ে অংশ নিতে পারেন সেই আয়োজনে। শিশুদের খেলনাগুলোকে অতিথি বানিয়ে বসানো যেতে পারে চায়ের আসরও।
শুধু খেলনা জড়িয়ে ধরাই নয়, চাইলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ছোট্ট পিকনিকের আয়োজন করতে পারেন। সঙ্গে রাখতে পারেন প্রিয় পুতুল ও নরম খেলনা। গল্প, হাসি আর শৈশবের স্মৃতিচারণে কাটতে পারে সুন্দর কিছু সময়।
দিনটি আসলে মনে করিয়ে দেয়, জীবনের ছোট ছোট জিনিসের মধ্যেও লুকিয়ে থাকতে পারে অনেক আনন্দ। তাই আলমারির এক কোণে পড়ে থাকা ছোটবেলার সেই প্রিয় টেডি বিয়ারটি আজ বের করে একবার জড়িয়ে ধরতেই পারেন। হয়তো মুহূর্তেই ফিরে পাবেন ফেলে আসা শৈশবের এক টুকরো আনন্দ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









