ভারতের সংসদের বাদল অধিবেশনে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে চলমান বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। সংসদের অচলাবস্থা কাটাতে বিরোধীদের জন্য নজিরবিহীনভাবে ২৪ ঘণ্টা আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে সেই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
বুধবার (১২ আগস্ট) সংসদে অমিত শাহ বলেন, বিরোধীরা লিখিতভাবে আবেদন করলে তিনি বুধবার দুপুর ৩টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টা আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত। সরকারের লুকানোর কিছু নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেকোনো বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে এবং বিরোধীদের সব প্রশ্নের উত্তর দিতেও সরকার প্রস্তুত।
অমিত শাহ আরও বলেন, তিনি সংসদে আসছেন না—বিরোধীদের এমন অভিযোগ সঠিক নয়। অধিবেশন শুরুর পর থেকেই তিনি নিয়মিত সংসদে আসছেন এবং নিজের দপ্তরেও দায়িত্ব পালন করছেন। বরং বিরোধীরাই সংসদের কার্যক্রম ব্যাহত করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে বিরোধীদের দাবি, শুধু আলোচনার প্রস্তাব দিলেই হবে না। যে বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেসব বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেই সংসদে এসে সরাসরি জবাব দিতে হবে।
বিশেষ করে দিল্লিতে এনইইটি পড়ুয়াদের আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অমিত শাহের বক্তব্য দাবি করেছে বিরোধী দলগুলো। আন্দোলনকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, হামলা, গুলি চালানো এবং পেরেক লাগানো লাঠি ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে বিরোধীরা সরব রয়েছে।
এর পাশাপাশি রামমন্দির ট্রাস্টের অনুদানের টাকা চুরির অভিযোগও সংসদে বিরোধীদের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে। এসব বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য না পাওয়া পর্যন্ত সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না বলে বিরোধীদের একাংশ জানিয়েছে।
এর আগে সংসদীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিলেও তাতে সন্তুষ্ট হয়নি বিরোধীরা। তাদের দাবি, অমিত শাহকে সংসদে এসে নির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর জবাব দিতে হবে।
এমন পরিস্থিতিতে অমিত শাহের ২৪ ঘণ্টা আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে রাহুল গান্ধী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী বলছেন, তা নিয়ে বিরোধীদের আগ্রহ নেই। তার কোনো ‘লেকচার’ শুনতেও তারা আগ্রহী নন।
রাহুলের অভিযোগ, পড়ুয়াদের ওপর পুলিশি হামলার ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জবাবদিহি করতে হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর নির্দেশ কে দিয়েছিল এবং পেরেক লাগানো লাঠি দিয়ে হামলার নির্দেশই বা কে দিয়েছিল। এসব নির্দেশ যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়ে থাকেন, তাহলে তার পদত্যাগ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাহুল আরও দাবি করেন, গত ২০ দিন ধরে অমিত শাহ সংসদে আসেননি। তবে অমিত শাহ এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তিনি নিয়মিত সংসদে উপস্থিত রয়েছেন।
অমিত শাহের ২৪ ঘণ্টার আলোচনার প্রস্তাব ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকার বলছে, যেকোনো বিষয়ে দীর্ঘ সময় আলোচনা করতে তারা প্রস্তুত। অন্যদিকে বিরোধীদের অবস্থান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী নির্দিষ্ট অভিযোগের জবাব না দিলে সেই আলোচনা অর্থবহ হবে না।
ফলে বাদল অধিবেশনে অচলাবস্থা কাটার পরিবর্তে সরকার ও বিরোধীদের সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আপাতত দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









