পাকিস্তানের পানির প্রতিটি ফোঁটাকে ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমারেখা হিসেবে উল্লেখ করে ভারতকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি বলেছেন, ভারত সঠিক পথে ফিরে না এলে পাকিস্তান সরাসরি জবাব দেবে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে ইসলামাবাদে ‘ইয়াদগার-ই-ফাতাহ’ বা বিজয় স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ সতর্কবার্তা দেন তিনি। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সামরিক বাহিনীর প্রধান (সিডিএফ) ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির যৌথভাবে স্মৃতিস্তম্ভটির উদ্বোধন করেন।
শেহবাজ বলেন, পাকিস্তান এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায়। তবে তাদের শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সশস্ত্র বাহিনীর সাম্প্রতিক সাফল্যের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এতে পুরো জাতির মাথা উঁচু হয়েছে এবং প্রতিপক্ষকে লজ্জাজনক পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। মাত্র আট মাসে অনন্য নকশার স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বকে নতুন সংঘাত থেকে রক্ষা করতে তাঁর দেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি। পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধবিরতি কার্যকরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকার কথাও স্মরণ করে ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের আশা প্রকাশ করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির প্রতীক হিসেবে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে তুরস্কের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও তুলে ধরেন শেহবাজ। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা না করার জন্য কাবুল প্রশাসনের প্রতি সতর্কবার্তা দেন।
কাশ্মীর ও ফিলিস্তিন ইস্যুতেও পাকিস্তানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে পাকিস্তানের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে জানান শেহবাজ। পাশাপাশি কাশ্মীরিদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন।
দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে শেহবাজ বলেন, ঐক্যবদ্ধ জাতিকে কোনো পরাশক্তি পরাজিত করতে পারে না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য যেন শত্রুতায় পরিণত না হয়, সেদিকেও সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিদেশি কূটনীতিক, সিনেট চেয়ারম্যান ও জাতীয় পরিষদের স্পিকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী, বিভিন্ন প্রদেশের পুলিশ এবং আজাদ কাশ্মীর ও গিলগিট-বালতিস্তানের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
পাকিস্তানের দাবি, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে বিজয়ের স্মারক হিসেবে ‘ইয়াদগার-ই-ফাতাহ’ নির্মাণ করা হয়েছে। দেশটির সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, জম্মু ও কাশ্মীরে একটি হামলার জেরে ৬ ও ৭ মে ভারতীয় বাহিনী ইসলামাবাদে হামলা চালায়। এর জবাবে পাকিস্তান পূর্ণ শক্তিতে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ৮০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে থামে।
পাকিস্তানের দাবি, ওই সংঘাতে ফ্রান্সের তৈরি রাফালসহ ভারতের আটটি যুদ্ধবিমান এবং বেশ কিছু ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছিল। তবে সংঘাত ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের দাবির মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









