ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে রাখতে আরো কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে। এর মধ্যেই গাজায় হামাসের সশস্ত্র তৎপরতা ও পুনরায় অস্ত্র সংগ্রহের অভিযোগ সামনে এসেছে।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বৃহস্পতিবার জানান, আগামী সপ্তাহে ইরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
বেসেন্ট বলেন, ইরানকে নজিরবিহীন অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ অব্যাহত রাখা হবে, যাতে ইরানের বন্দরগুলো দিয়ে কোনো পণ্য ঢুকতে বা বের হতে না পারে।
তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, প্রয়োজন হলে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত এই অবরোধ চালিয়ে যেতে সক্ষম মার্কিন নৌবাহিনী। জাহাজ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে এই কার্যক্রম চালানো হবে বলেও জানান তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তবে ইরান তা অস্বীকার করে জানিয়েছে, তেহরানের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি অবরুদ্ধই থাকবে।
এদিকে চাপের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের ঘটনাও ঘটেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অভিযোগ, ইরান তাদের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির মালিকানাধীন দুটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা এবং হরমুজ প্রণালিতে তেল-গ্যাসের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করাই ওয়াশিংটনের লক্ষ্য।
অন্যদিকে গাজা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে ইসরায়েলে। গাজা সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত ইসরায়েলি সেনারা উপত্যকার ভেতরে সশস্ত্র তৎপরতার বিষয়ে সতর্ক করেছেন বলে জানা গেছে। তাদের আশঙ্কা, হামাস আবারও অস্ত্র সংগ্রহ ও নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
ইসরায়েলি সেনাদের এই সতর্কতা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের আগের পরিস্থিতির কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছে। ওই সময়ও গাজা থেকে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে বিভিন্ন সতর্কতা ছিল বলে দাবি করা হয়ে থাকে।
এদিকে জুদেয়া ও সামারিয়ায় ইসরায়েলিদের হাতে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার অভিযোগ নিয়েও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা উদ্বেগ জানিয়েছেন। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, সহিংসতার বিরোধিতা করে তার দেশ। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব কেবল কর্তৃপক্ষের, অন্য কারও নয়।
ইরান, গাজা এবং জুদেয়া-সামারিয়াকে ঘিরে একাধিক সংঘাতের কেন্দ্র তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। তবে সেই চাপ আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









