গাজা উপত্যকায় বুধবার ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত চারজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। এর মধ্যে একটি হামলায় হামাসের একজন শীর্ষ অর্থবিষয়ক কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে ইসরাইল। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় দেড় হাজারের কাছাকাছি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, আর ইসরাইলের পক্ষ থেকে চারজন সেনা নিহতের কথা জানানো হয়েছে।

খান ইউনিসে হামলা
চিকিৎসাকর্মীরা জানান, গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসের পশ্চিমাংশে একটি গাড়িতে ইসরাইলি বিমান হামলায় ওসামা আবু খাতের ও মোহাম্মদ আবু এলওয়ান নামের দুই ফিলিস্তিনি নিহত হন। এতে আরও দুজন আহত হয়েছেন।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ এক যৌথ বিবৃতিতে মোহাম্মদ আবু এলওয়ানকে হামাসের জ্যেষ্ঠ অর্থ কর্মকর্তা বলে উল্লেখ করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা হামাসকে পুনরায় শক্তিশালী হতে দেব না, এবং গাজায় হামাসের অস্তিত্ব সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না।"
এ বিষয়ে হামাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আরও দুটি হামলা
বুধবার পরে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, গাজা শহর ও মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহতে পৃথক দুটি ইসরাইলি বিমান হামলায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন। এর ফলে বুধবারের মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় অন্তত চারে। এই দুটি হামলা নিয়ে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

যুদ্ধবিরতির পরও সহিংসতা অব্যাহত
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাস-নেতৃত্বাধীন যোদ্ধাদের হামলায় দক্ষিণ ইসরাইলে প্রায় ১,২০০ জন নিহত হওয়ার পর ইসরাইল গাজায় যে অভিযান শুরু করে, তাতে এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত বছর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে গাজার পুনর্গঠনের কথা থাকলেও হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের শর্ত নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় এখনো তেমন অগ্রগতি হয়নি। এর মধ্যেই ইসরাইলি বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে অন্তত ১,৪০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। অন্যদিকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, এই সময়ের মধ্যে তাদের চারজন সেনা নিহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের দায় নিয়ে ইসরাইল ও হামাস একে অপরকে দোষারোপ করে আসছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









