ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শুক্রবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় আম আদমি পার্টির (এএপি) নেত্রী আতিশী, সঞ্জয় সিং ও সৌরভ ভরদ্বাজসহ বিভিন্ন ছাত্র ও যুব সংগঠনের ৫০০-র বেশি বিক্ষোভকারীকে দিল্লি পুলিশ আটক করেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস। তবে দ্য ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে ৭০০ জনের বেশি মানুষকে আটকের কথা উল্লেখ্য করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা অশোক রোড হয়ে জন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের আটক করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নয়াদিল্লি জেলায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। এর ফলে অনুমতি ছাড়া জমায়েত ও বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ
অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ), স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই) এবং ডেমোক্রেটিক ইয়ুথ ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (ডিওয়াইএফআই) ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিন জন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ও মিছিলের ডাক দিয়েছিল।
তবে দিল্লি পুলিশ ওই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, বিক্ষোভ ঠেকাতে জন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয়।
নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা ব্যবস্থাপনা এবং ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ছাত্র ও নাগরিক সংগঠন বিক্ষোভ করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবারের কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।
মুম্বাইয়েও ‘জেল ভরো’ আন্দোলনের ডাক
এদিকে একই ইস্যুতে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে পৃথক কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আন্দোলন। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ২ অক্টোবর বিকেল ৪টায় ‘জেল ভরো আন্দোলন’র ডাক দিয়েছেন।
এর আগে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত বিক্ষোভের জন্য অনুমতি চেয়েছিল সিজেপি। দীপকের দাবি ছিল, মুম্বাই পুলিশ ওই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি।
পরে মুম্বাই পুলিশ জানায়, ২০১৩ সালের বোম্বে হাইকোর্টের একটি আদেশের কারণে শিবাজি পার্কে এ ধরনের জমায়েতের অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। একই সঙ্গে পুলিশ জানিয়েছে, এলাকাটি ‘নীরব এলাকা’ বা সাইলেন্স জোনের আওতাভুক্ত।
বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান আতিশীর
বৃহস্পতিবার এএপি বিধায়ক ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আতিশী সাধারণ মানুষকে শুক্রবার সকাল ১০টায় জন্তর মন্তরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ২ অক্টোবর সকাল ১০টায় জন্তর মন্তরে যাওয়ার জন্য তিনি সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছেন।
এক ভিডিও বার্তায় আতিশী বলেন, ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর নাগরিকদের পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ অধিকারগুলোর একটি ছিল ভোটাধিকার। এর মাধ্যমে মানুষ সরকার গঠন এবং নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পেয়েছে।
আতিশীর অভিযোগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের মাধ্যমে বিজেপি সেই অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
তার ভাষ্য, ভোটাধিকার ঝুঁকিতে পড়লে গণতন্ত্রও ঝুঁকিতে পড়ে। এ কারণে তিনি মানুষকে জন্তর মন্তরের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
ভোটার তালিকা নিয়ে সঞ্জয় সিংয়ের অভিযোগ
এএপি সাংসদ সঞ্জয় সিংও বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার জন্য মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তার অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে ভোটার তালিকা থেকে ১ কোটি ৩৭ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন ও এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দল ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের আপত্তির মধ্যেই দিল্লিতে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









