রাশিয়া, ইরান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহারের কারণে যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা হুমকি বাড়ছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআইফাইভের প্রধান স্যার কেন ম্যাককালাম বলেছেন, রাষ্ট্রীয় হুমকি মোকাবিলায় এখন স্নায়ুযুদ্ধের সময়ের চেয়েও বেশি সম্পদ ব্যয় করতে হচ্ছে। তিনি রাশিয়াকে ‘এক নম্বর আগ্রাসী শক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে লন্ডনে এমআইফাইভের সদর দপ্তরে বার্ষিক ভাষণে তিনি বলেন, গত এক দশকে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে আসা হুমকি চার গুণ বেড়েছে। বর্তমানে সন্ত্রাসবাদ ও রাষ্ট্রীয় হুমকি মোকাবিলায় সংস্থাটির কার্যক্রমের পরিসর প্রায় সমান।
ম্যাককালামের অভিযোগ, রাশিয়া ন্যাটোর সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে ইউরোপের দেশগুলোকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। ইউক্রেনে দেশটির সামরিক অগ্রগতি সামান্য হলেও এর মূল্য অত্যন্ত বেশি। যুক্তরাজ্যে প্রায় এক হাজার রুশ কর্মকর্তাকে বহিষ্কারের ফলে মস্কোর প্রচলিত গোপন নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়েছে। এখন রাশিয়া নিজেদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে অর্থের বিনিময়ে অপরাধীদের কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন তিনি।
যুক্তরাজ্যে ইরান-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের ঘটনায় গত এক বছরে ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান এমআইফাইভ প্রধান। তাঁর মতে, এসব তৎপরতার বড় অংশ যুক্তরাজ্যের ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে। সামরিক স্থাপনাও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে। আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে কথিত হামলার ষড়যন্ত্রের বিষয়ে তিনি সরাসরি মন্তব্য না করলেও প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এর পেছনে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নির্দেশনা থাকার সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন।
ম্যাককালাম বলেন, যুক্তরাজ্যের ভেতরে কিংবা বিদেশে থেকে যারা দেশটির রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদেশি শক্তির হয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের জাতীয় নিরাপত্তা আইন ব্যবহার করা হচ্ছে। চীন, ইরান ও রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট হুমকি মোকাবিলায়ও এ আইন প্রয়োগ করা হয়েছে।
এআই দিয়ে জীবাণু অস্ত্র তৈরির আশঙ্কা
এআইয়ের অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ম্যাককালাম। তাঁর ভাষ্য, এআই সাইবার আক্রমণ ও প্রতিরোধের প্রতিযোগিতা আরও তীব্র করছে। এ প্রযুক্তি দিয়ে ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে প্রচারণা ও উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ করার উপকরণ তৈরি করা যায়। সন্ত্রাসীরা নজরদারি ও হামলার পরিকল্পনা উন্নত করতে এআই ব্যবহার করছে। এআই-সক্ষম ড্রোনও নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে।
তবে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর এআই ব্যবহার করে জীবাণু অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনাকে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি। এমন হুমকি এখনো বাস্তবে দেখা না গেলেও এআই বিদ্যমান বা নতুন জীবাণু অস্ত্রের ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে। এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দেশটির এআই নিরাপত্তা ইনস্টিটিউটের সঙ্গে কাজ করছে।

মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান কোনো শক্তির মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা মানব ইতিহাসে নেই উল্লেখ করে ম্যাককালাম বলেন, এআই ভবিষ্যতে কী ধরনের হুমকি তৈরি করবে, তা পুরোপুরি অনুমান করা কঠিন।
চরম ডানপন্থী সন্ত্রাসবাদও উদ্বেগের কারণ
যুক্তরাজ্যে গত এপ্রিলে পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সন্ত্রাসবাদী হুমকির মাত্রা ‘গুরুতর’ পর্যায়ে উন্নীত করা হয়। এর অর্থ, হামলার আশঙ্কা অত্যন্ত বেশি। আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের মতো সংগঠন এখনো হামলার নির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। পাশাপাশি চরম ডানপন্থী সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকিও বেড়েছে।
ম্যাককালাম বলেন, গত এক বছরে অভিবাসনবিরোধী ও মুসলিমবিরোধী ক্ষোভ থেকে উগ্রবাদী মনোভাব পোষণকারী ব্যক্তিদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এ ধরনের উগ্রবাদে তরুণদের জড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে ইন্টারনেট বড় ভূমিকা রাখছে।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মাত্র ১৩ বছর বয়সী এক উগ্রবাদে প্রভাবিত চরম ডানপন্থী কিশোরকে নিয়ে তদন্ত করেছে এমআইফাইভ। ওই তদন্ত থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যের একটি আন্তর্জাতিক অংশীদার দেশ নিজেদের ভূখণ্ডে প্রাণঘাতী হামলা ঠেকাতে সক্ষম হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









