ভালো আইনজীবী হতে শুধু আইনের বই পড়লেই হবে না, মামলার তথ্য, তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণ সম্পর্কেও গভীর জ্ঞান থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
শনিবার (২৯ আগস্ট) আশুলিয়া মডেল টাউনে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল’ ক্লাব আয়োজিত ‘দ্য আর্ট অব ক্রস এক্সামিনেশন’ শীর্ষক ক্রিমিনাল ট্রায়াল অ্যাডভোকেসি কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, দক্ষ আইনজীবী হতে আইনের বই পড়ার পাশাপাশি যুক্তিবোধ, অনুসন্ধিৎসা, পেশাগত দক্ষতা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। ভালোভাবে সাক্ষী জেরা করার কোনো নির্দিষ্ট সূত্র নেই। একজন দক্ষ ট্রায়াল আইনজীবীকে সংশ্লিষ্ট আইনের ওপর গভীর দখল রাখার পাশাপাশি মামলার তথ্য ও তদন্তের বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, তদন্তের বিভিন্ন ধাপে কী ঘটেছে, কোথায় ভুল হয়েছে এবং সাক্ষ্যপ্রমাণে কোনো অসংগতি বা ঘাটতি রয়েছে কি না—এসব বিষয় খুঁজে বের করার সক্ষমতা একজন আইনজীবীর থাকতে হবে।
মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে বের হওয়া শিক্ষার্থীরা যেন শুধু আইনজীবী নয়, ভালো মানুষ ও দায়িত্বশীল পেশাজীবী হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হন—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, একজন আইনজীবীর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মেধা, যুক্তি, জ্ঞান ও পেশাগত দক্ষতা।
আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত আদালতে গিয়ে বিচারিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে মামলা পরিচালনা, সাক্ষী জেরা এবং আইনি যুক্তি উপস্থাপনের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করা সম্ভব।
আইন পেশাকে মর্যাদাপূর্ণ পেশা উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এ পেশার মর্যাদা ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে মেধাবী, দক্ষ, নৈতিক ও দায়িত্বশীল আইনজীবী তৈরি করা প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ আইনজীবীদের দেশের বিচারব্যবস্থা ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা নিয়ে গড়ে উঠতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুর রব বলেন, আইন শুধু একটি পেশা নয়; মানবতা, ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। তাই আইন শিক্ষার্থীদের গভীর জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে।
মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়কে আদর্শিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলাই লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখান থেকে শিক্ষার্থীরা শুধু সনদ নিয়ে বের হবে না; জ্ঞান, নৈতিকতা, দক্ষতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করবে। এ লক্ষ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে।
আইন বিভাগের প্রধান আবদুল্লাহ হিল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মার্জিনা রায়হান, প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জহিরুল আমিন, প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী ও প্রসিকিউটর এসএম তাসমিরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মানারাত ইউনিভার্সিটির নবনির্মিত মুট কোর্ট উদ্বোধন করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম ও ভাইস চ্যান্সেলর আবদুর রব। পরে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মক ট্রায়াল অনুষ্ঠিত হয়।
মক ট্রায়ালের প্রিজাইডিং জাজ হিসেবে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন চিফ প্রসিকিউটর। এ সময় শিক্ষার্থীদের উপস্থাপনা, আইনি যুক্তি, সাক্ষী জেরা ও বিচার কার্যক্রম পরিচালনার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেন তিনি। একই সঙ্গে ভুল-ত্রুটি সংশোধন এবং ভবিষ্যতে আরও দক্ষতার সঙ্গে মামলা পরিচালনার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন।
এর আগে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক শ্রেণি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হয়। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদেরও সনদপত্র দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









