লিপস্টিক নারীদের প্রতিদিনের সাজের অন্যতম অনুষঙ্গ। ঠোঁটে রঙের ছোঁয়া যেমন আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, তেমনি এর কিছু উপাদান দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকির কারণও হতে পারে। তাই সৌন্দর্যের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনভাবে লিপস্টিক ব্যবহার করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু লিপস্টিকে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট রাসায়নিক ও ভারী ধাতুর উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ব্যবহারের ক্ষেত্রে শরীরে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে পণ্য নির্বাচন ও ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলের স্কুল অব পাবলিক হেলথের এক গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু লিপস্টিকে ক্রোমিয়াম, সিসা (লিড), অ্যালুমিনিয়াম ও ক্যাডমিয়ামসহ বিভিন্ন ভারী ধাতুর উপস্থিতি থাকতে পারে। নিয়মিত ব্যবহারের ফলে এসব উপাদান অল্প পরিমাণে শরীরে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
গবেষকদের মতে, যারা দিনে একাধিকবার লিপস্টিক ব্যবহার করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। কিছু গাঢ় রঙের লিপস্টিকে নির্দিষ্ট ভারী ধাতুর মাত্রাও তুলনামূলক বেশি পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ক্যাডমিয়ামের সংস্পর্শে থাকলে কিডনি ও ফুসফুসের ক্ষতি, হাড়ের সমস্যা এবং হরমোনের ভারসাম্যে প্রভাব পড়তে পারে। কিছু গবেষণায় এটিকে ক্যান্সারের ঝুঁকির সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু লিপস্টিক নয়, কিছু লিপ বামেও প্যারাবেনসহ বিভিন্ন সংরক্ষণকারী রাসায়নিক থাকতে পারে। যদিও সব লিপ বামে এ ধরনের উপাদান থাকে না, তবু পণ্য কেনার আগে উপাদানের তালিকা দেখে নেওয়া ভালো।
তাই লিপস্টিক বা লিপ বাম কেনার সময় বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডের পণ্য বেছে নেওয়া, উপাদানের তালিকা পড়ে দেখা এবং অপ্রয়োজনীয় রাসায়নিকমুক্ত বা নিরাপত্তা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ পণ্য ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সৌন্দর্যের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতন নির্বাচনই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর উপায়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









