শরীরে কিছু পরিবর্তন দেখা দিলে অনেকেই তা সাময়িক সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। তবে কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, শ্বাসকষ্ট কিংবা দৃষ্টিতে অস্বাভাবিকতা দেখা দেওয়ার মতো উপসর্গ কখনো কখনো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে, তা জানা জরুরি।
কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া
খাদ্যাভ্যাস বা ব্যায়ামে পরিবর্তন না এনেও ওজন কমে গেলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। অতিসক্রিয় থাইরয়েড, ডায়াবেটিস, বিষণ্ণতা, যকৃতের রোগ, ক্যানসার কিংবা শরীরে পুষ্টি শোষণে সমস্যার কারণে এমন হতে পারে। গত ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে শরীরের ওজনের ৫ শতাংশের বেশি কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
একটানা বা অতিরিক্ত জ্বর
জ্বর অনেক সময় সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া। তবে দীর্ঘস্থায়ী জ্বর বিভিন্ন সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। জ্বরের সঙ্গে কাশি বা অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মূত্রনালির সংক্রমণ থেকে যক্ষ্মা—বিভিন্ন রোগে জ্বর হতে পারে। কিছু ওষুধের কারণেও জ্বর দেখা দিতে পারে। শরীরের তাপমাত্রা ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৩৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কিংবা তার বেশি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
শ্বাসকষ্ট
কঠোর ব্যায়াম, অতিরিক্ত গরম, স্থূলতা কিংবা বেশি উচ্চতায় অবস্থানের কারণে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। আবার হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস, নিউমোনিয়া, দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ, হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা কিংবা ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধার কারণেও এমন হতে পারে। তীব্র উদ্বেগ বা আতঙ্কের সময়ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। তবে কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে, বিশেষ করে তা তীব্র হলে, জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।
মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন
ব্যক্তিভেদে মলত্যাগের স্বাভাবিক অভ্যাস ভিন্ন হতে পারে। তবে হঠাৎ বা দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন দেখা দিলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে—
মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়া বা মল কালো হওয়া।
দীর্ঘদিন ডায়রিয়া কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্য থাকা।
পেটে এমন ব্যথা হওয়া, যা সহজে কমে না।
ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা পরজীবীর সংক্রমণ, ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম কিংবা কোলন ক্যানসারের মতো সমস্যায় এসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে। কারণ নির্ণয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বিভ্রান্তি বা ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন
হঠাৎ চিন্তাভাবনায় অসংগতি, মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধা কিংবা আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। সংক্রমণ, পানিশূন্যতা, অপুষ্টি, মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা কিংবা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় এমন হতে পারে। হঠাৎ বিভ্রান্তি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
অল্প খেয়েই পেট ভরে যাওয়া
স্বাভাবিকের তুলনায় কম খাবার খেয়েই পেট ভরে গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থাকে ‘আর্লি স্যাটাইটি’ বলা হয়। এর সঙ্গে বমি বমি ভাব, বমি, পেট ফাঁপা কিংবা ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকতে পারে।
গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স রোগ, পাকস্থলীর আলসারসহ বিভিন্ন কারণে এমন হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে পাকস্থলীর ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগও এর কারণ হতে পারে। তাই এমন সমস্যা নিয়মিত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
চোখে আলোর ঝলকানি দেখা
চোখের সামনে হঠাৎ আলোর ঝলকানি বা উজ্জ্বল দাগ দেখা মাইগ্রেনের লক্ষণ হতে পারে। তবে কখনো কখনো এটি চোখের রেটিনা তার স্বাভাবিক অবস্থান থেকে সরে যাওয়ার লক্ষণও হতে পারে। এমন অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা না নিলে স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি থাকে।
বিশেষ করে হঠাৎ আলোর ঝলকানির সঙ্গে নতুন করে অনেক কালো বিন্দু দেখা, চোখের সামনে পর্দা নেমে আসার মতো অনুভূতি কিংবা দৃষ্টিশক্তি কমে গেলে জরুরি ভিত্তিতে চক্ষু চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
শরীরের এসব পরিবর্তন মানেই গুরুতর রোগ হয়েছে, এমন নয়। তবে উপসর্গগুলো স্থায়ী হলে, বাড়তে থাকলে কিংবা হঠাৎ তীব্র আকার ধারণ করলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









