বরিশালে নিখোঁজ হওয়ার দুদিন পর নাজমুল হোসেন (২৫) নামে এক অটোরিকশা চালকের অর্ধগলিত বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কালিজিরা নদীর পূর্ব পাড় থেকে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তবে নাজমুলের সন্ধান মিললেও তার সঙ্গে থাকা অটোরিকশাটি এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অটোরিকশাটি ছিনতাই করার উদ্দেশ্যেই চালক নাজমুলকে নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
নিহত নাজমুল হোসেন বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের মাকরকাঠি এলাকার আব্দুল রশিদ মোল্লার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে কালিজিরা নদীর পূর্ব পাড়ে একটি প্লাস্টিকের বস্তায় অর্ধেক বাঁধা অবস্থায় একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হলে তারা তাৎক্ষণিক পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নদী থেকে নাজমুলের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, শনিবার (১৩ জুন) সকালে অটোরিকশা নিয়ে জীবিকার তাগিদে বাড়ি থেকে বের হন নাজমুল। এরপর দুপুর থেকে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। একপর্যায়ে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও নাজমুলের কোনো সন্ধান না পেয়ে রবিবার (১৪ জুন) তার বাবা আব্দুল রশিদ মোল্লা বরিশাল মেট্রোপলিটনের এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
স্বামীর মৃত্যুর খবরে শোকে ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী নীপা বেগম। কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, শনিবার সকাল ১০টার দিকে নাজমুল বাড়িতে এসে সন্তানকে দেখে যান। রাতে আমাদের নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এরপর থেকে আর তার খোঁজ পাইনি। তার তো কোনো শত্রু ছিল না, তাহলে কেন আমার স্বামীকে এভাবে মেরে ফেলা হলো?
বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী কমিশনার অলোক কান্তি শর্মা জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে। যেহেতু তার অটোরিকশাটি পাওয়া যাচ্ছে না, তাই ধারণা করা হচ্ছে ছিনতাইকারীরাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের জোরালো চেষ্টা চলছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









