‘যদি মন কাঁদে, তুমি চলে এসো এক বরষায়’—নিজের লেখা গানের এই পঙ্ক্তির মতোই বর্ষার দিনে বারবার স্মরণে আসেন নন্দিত কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্রকার হুমায়ূন আহমেদ। আজ তার ১৪তম প্রয়াণ দিবস।
২০১২ সালের ১৯ জুলাই তিনি পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যান অনন্তের পথে। বৃষ্টি ছিল হুমায়ূন আহমেদের অন্যতম প্রিয় বিষয়। তার লেখা, গান ও সৃষ্টিতে বারবার উঠে এসেছে বৃষ্টি, প্রকৃতি ও মানবিক অনুভূতির নানা রূপ।
ভক্তদের কাছে আজও তিনি ফিরে আসেন তার সৃষ্টি, চরিত্র ও গল্পের মাধ্যমে। প্রিয় নুহাশ পল্লী কিংবা ধানমন্ডির ‘দখিন হাওয়া’য় যেন তার স্মৃতির উপস্থিতি অনুভব করেন অনেকে।
প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ অনুষ্ঠান। প্রথম প্রহর ও সকালে প্রচারিত হয়েছে বিশেষ স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠান ‘তৃতীয় মাত্রা’। ফরিদুর রেজা সাগরের উপস্থাপনায় এতে অংশ নেন কবি হাসান হাফিজ, প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম ও অভিনেতা ডা. এজাজুর রহমান।
এ ছাড়া সকালে প্রচারিত হয়েছে ‘গান দিয়ে শুরু’র বিশেষ পর্ব। বিকেলে দেখানো হবে হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘নন্দিত নরকে’।
১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা শেষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগের শিক্ষকতা করেন।
১৯৭২ সালে প্রকাশিত তার প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ দিয়েই বাংলা সাহিত্যে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি। এরপর ‘শঙ্খনীল কারাগার’সহ একের পর এক জনপ্রিয় উপন্যাসের মাধ্যমে তিনি হয়ে ওঠেন বাংলা ভাষার অন্যতম জনপ্রিয় লেখক।
তার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে ‘মধ্যাহ্ন’, ‘জোছনা ও জননীর গল্প’, ‘দেয়াল’, ‘মাতাল হাওয়া’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘কবি’, ‘লীলাবতী’ ও ‘এই সব দিনরাত্রি’।
তার সৃষ্ট হিমু, মিসির আলি, রূপা ও শুভ্রের মতো চরিত্রগুলো কয়েক প্রজন্মের পাঠকের কাছে পেয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা।
সাহিত্যের পাশাপাশি নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণেও নিজের স্বতন্ত্র প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ। তার পরিচালিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘আগুনের পরশমণি’, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘আমার আছে জল’ এবং ‘ঘেটুপুত্র কমলা’।
তার লেখা নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘বহুব্রীহি’, ‘অয়োময়’, ‘কোথাও কেউ নেই’ ও ‘আজ রবিবার’ দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পাশাপাশি তিনি নির্মাণ করেছেন ‘নক্ষত্রের রাত’, ‘উড়ে যায় বকপক্ষী’, ‘সেদিন চৈত্র মাস’সহ অসংখ্য দর্শকপ্রিয় নাটক।
সৃজনশীল অবদানের জন্য হুমায়ূন আহমেদ পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদকসহ বিভিন্ন সম্মাননা। চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্যও তিনি পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে তার অনন্য অবদান তাকে আজও পাঠক-দর্শকের হৃদয়ে জীবন্ত করে রেখেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









