রমজানের শুরুতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া এক অনিবার্য রেওয়াজ। ইতিমধ্যে দাম বেড়েছে দেশি–বিদেশি বিভিন্ন ফলের, ইফতারি তৈরিতে ব্যবহৃত হয় এমন সবজির দামও এখন বাড়তির দিকে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে সরেজমিনে রাজধানীর হাতিরপুল, বড় মগবাজার, রামপুরা কাঁচাবাজার ও কারওয়ান বাজারে ঘুরে এই রকম চিত্রই দেখা যায়।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, কলার ডজনপ্রতি দাম বেড়েছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। তরমুজের মৌসুম পুরোপুরি শুরু না হলেও আকারভেদে কেজিপ্রতি দাম চাওয়া হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকা। পেয়ারার দাম বেড়ে আকারভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। আর আকারভেদে প্রতিটি আনারস ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিদেশি ফলের মধ্যে রোজায় সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে খেজুর, মাল্টা ও আপেলের। এর মধ্যে মাল্টা ও আপেলের দাম বেড়েছে। মাল্টার দাম কেজিপ্রতি বেড়ে ৩১০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর আপেলের কেজি প্রকারভেদে ৩৩০ থেকে ৪০০ টাকা। দেশি পেঁপের দামও কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলেছেন, নির্বাচনের ফলে সরবরাহে কিছুটা বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি পরিবহন খরচও বেড়েছে কয়েক গুণ। এদিকে বিভিন্ন পাইকারি বাজারে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর অভিযোগও আছে। এতে বাড়তি দামে ফল বিক্রি হচ্ছে আর ভোক্তাদের খরচ বাড়ছে।
রামপুরা কাঁচাবাজারে ফল কিনতে আসেন বাড্ডার বাসিন্দা নাজনীন রহমান বলেন, ‘গত সপ্তাহে মাল্টার কেজি ছিল ২৪০ টাকা। আজ কিনেছি ৩২০ টাকা কেজি দরে। আপেলের দামও কেজিতে ৫০ টাকার মতো বেড়েছে।’
একই বাজারের ফল বিক্রেতা আকরাম হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনের পর থেকে ফলের সরবরাহ কম। নির্বাচনের পর থেকে গাড়ি কম, পাইকার বেশি।’
আরেক ফল বিক্রেতা মোহাম্মদ রুবেল বলেন, ‘এক পেটিতে ২২ থেকে ২৩ কেজি কমলা থাকে। নির্বাচনের আগেও এক পেটি কমলা কিনেছি ৫ হাজার থেকে ৫ হাজার ৩০০ টাকায়। অথচ এখন কিনতে হচ্ছে ৬ হাজার থেকে ৬ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।’
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঘুরে দেখা যায়, প্রতি ডজন চাঁপা কলা ১০০ টাকা, শবরি কলা আকারভেদে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা ও বাংলা কলা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি কেজি কমলা বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা। মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা দরে।
কারওয়ান বাজারে ফল ব্যবসী মো. ফজল আমিন বলেন, ‘সব সময় রোজা এলে পণ্যের দাম বাড়ে। তবে এবার দেশীয় ফলের মধ্যে বেশি বেড়েছে কলার দাম।’
আরেক ব্যবসায়ী জুয়েল রানা বলেন, ‘বাদামতলী ফলের আড়তে সব ধরনের ফলের পাইকারি দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে গাড়িতে পণ্য ওঠানো ও পরিবহনের খরচ বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি।’
রোজার সময় ফলের পাশাপাশি লেবু, বেগুন, শসা, গাজর এসব সবজির বেশ চাহিদা থাকে। তাই এসব পণ্যের দাম বেড়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিগুণের বেশি দামে লেবু বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ মানের যে লেবুর হালি কয়েক সপ্তাহ আগে ছিল ২০-৪০ টাকা, যা এক সপ্তাহ ধরে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর বড় আকৃতির লেবু প্রতি হালি ৮০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি বেগুন ১০০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারভেদে কোথাও এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা আবুল কালাম বলেন, ‘দুই–তিন দিন ধরে রোজার জন্য প্রয়োজনীয় সবজির দাম বেড়েছে। আড়ত থেকে আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই লাভ রেখে পাইকারি দাম থেকে কেজিতে ১০–২০ টাকা লাভে বিক্রি করছি।’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









