পারলেন না মেসি। পারলো না আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার অসহায় আত্মসমর্পণ করলো স্পেনের কাছে। পুরো ফাইনাল ম্যাচজুড়ে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে যেন ছেলেখেলা করলো ইয়ামালরা। ১-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে বধ করে শিরোপা নিজেদের করে নিল স্পেন।
পুরো ৯০ মিনিটে মেসির দলকে নিজেদের গোলপোস্ট চেনার সুযোগই দেয়নি স্পেন। ছয় দশক পর এমন চিত্র দেখা গেল সেলেসাওদের। শেষ ১৯৬৬ সালে পুরো ম্যাচে গোলপোস্টে কোনো আক্রমণ করতে পারেনি আর্জেন্টিনা।
সম্পূর্ণ ম্যাচে যেন মেসি থেকেও ছিলেন না মাঠে। বিশ্ব অবাক হয়ে দেখলো মেসির অসহায়ত্ব। একটি সুযোগও তৈরি করতে পারলেন না তিনি, দিতে পারলেন না গোল। আর তাতেই হাত ছাড়া হলো বিশ্বকাপ শিরোপা। হারাতে হলো `বিশ্বচ্যাম্পিয়ন’ খেতাব।
আজকের ম্যাচে গোল করতে না পারায় শুধু শিরোপা হারাননি মেসি। এর পাশাপাশি বিশ্বকাপ মঞ্চে সর্বোচ্চ গোলের মালিক হতে পারলেন না। হাত ছাড়া হলো গোল্ডেন বুটও। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি গোল করে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড এবং গোল্ডেন বুট নিজের করে নিয়ে গেলেন ফ্রান্সের ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে।
লিওনেল মেসির কাছে হয়তো ব্যক্তিগত অর্জন খুব বেশি মূল্য রাখে না। কিন্তু তার ভক্তদের কাছে এর দাম অনেক বেশি। মেসির শেষ বিশ্বকাপ রাঙবে দলীয় এবং ব্যক্তিগত রেকর্ডের পরিসংখ্যানে। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপ যেন এই কিংবদন্তিকে আশার হাতছানি দিয়ে ছুঁড়ে ফেলে গেল। শুধু দিয়ে গেল স্বপ্ন ভাঙার বেদনা।
হয়তো মেসি এবার পাকাপোক্তভাবেই অবসর ঘোষণা করবেন। কারণ ২০৩০ বিশ্বকাপে তার বয়স ছুঁবে বিয়াল্লিশের ঘর। এরমধ্যে নেইমার, রোনালদো, হ্যারি কেন, লুকা মদ্রিচ অবসরের কথা জানিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় সেও হয়তো বিদায় নেবেন এই মঞ্চ থেকে। দর্শক গ্যালারিতে বসে হয়তো দেখবেন পরের বিশ্বকাপ। তাই মেসি ভক্তদের হৃদয়ভাঙা কান্না আর আক্ষেপের গল্পই যেন সঙ্গী হয়ে রইলো।
এবারের বিশ্বকাপে ৮ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট করেও হারালেন গোল্ডেন বুট। আর বিশ্বকাপে সর্বমোট ২২ গোল তবুও হতে পারলেন না সর্বোচ্চ গোলের অধিকারী। কিলিয়ান এমবাপ্পে যেন সব আলো কেড়ে রেখে দিলেন নিজের কাছে। লিওনেল মেসির জন্য শেষ সময়ে রেখে গেলেন হতাশা, আক্ষেপ আর হাজারো প্রাপ্তির ভেতর অপ্রাপ্তির স্বাদ।
এতো কিছুর পরও মেসি থাকবেন কিংবদন্তি হয়েই। অদূর ভবিষ্যতে ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেবে একজন ফুটবল জাদুকর এসেছিল, যার বাঁ পায়ের জাদুতে হারিয়ে যাওয়া আর্জেন্টিনা বিশ্বজয় করেছিল। তার হাত ধরেই উঠেছিল চূড়ান্ত শিখরে। প্রাপ্তির পথচলায় শুধু শেষটা রয়ে গেল অপ্রাপ্তির পাতায়। খালি পরে রইলো পাতা, মহাকাব্য হলো না তবে আর লেখা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









