প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র যাত্রা ইতিহাসের পাতায় বাঙালি জাতির অস্তিত্ব, অখণ্ডতা ও ভবিষ্যৎ আত্মপরিচয়ের এক নতুন মাইলফলক। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে নিউইয়র্কে তাঁর এই সফর কেবল একটি রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি নয়; এর মধ্য দিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন অগ্রাধিকার, জাতীয় স্বার্থ এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
‘সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়’- মালয়েশিয়া ও চীন সফরের পর এবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম নিউইয়র্ক সফর, যা সঠিক সময়ে সঠিক সফর। ২১ সেপ্টেম্বর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে তিনি নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এরপর তিনি ওঠেন ম্যানহাটনের হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে তাঁর প্রথম ভাষণ দেবেন। এই সফরের তাৎপর্য কেবল জাতিসংঘের মঞ্চে বক্তব্য রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য, বৈশ্বিক বৈষম্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ, বিশ্বরাজনীতির পরিবর্তনশীল বাস্তবতায় বাংলাদেশ তার নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ ও অগ্রাধিকারকে আরো সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপনের পথে এগোচ্ছে। কথায় বলে- ‘যদি বর্ষে পৌষে, টাকা হয় তুষে’। অর্থাৎ সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত ও অনুকূল পরিবেশ কাজে লাগাতে পারলে সীমিত সম্পদ থেকেও সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যায়। বৈশ্বিক কূটনীতির বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্যও এমন একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আবেগের চেয়ে বাস্তবতা, স্লোগানের চেয়ে কৌশল এবং সাময়িক সাফল্যের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থ অধিক গুরুত্বপূর্ণ। যে প্রত্যাশায় গোটা বাঙালি জাতি অধীর আগ্রহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।
বাংলাদেশের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি এবং জাতিসংঘ সনদের নীতির প্রতি শ্রদ্ধার কথা বলা হয়েছে। সেই সাংবিধানিক চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’- বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বহুল উদ্ধৃত মূলনীতিও দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়ার যে কর্মসূচি নিয়েছেন, তা এই ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতিরই বাস্তব প্রয়োগের সুযোগ তৈরি করছে। জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত এবং জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকারবিষয়ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে। পাশাপাশি কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।
ইতিহাস আমাদের শেখায়, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে কোনো দেশের অবস্থান শুধু তার ভৌগোলিক আয়তন বা অর্থনৈতিক শক্তির ওপর নির্ভর করে না; নির্ভর করে তার কূটনৈতিক দক্ষতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের স্বার্থ উপস্থাপনের সামর্থ্যের ওপর। মধ্যযুগের বাংলার বন্দর ও বাণিজ্যপথ যখন দূরপ্রাচ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে যোগাযোগের বিস্তার ঘটাচ্ছিল, তখন থেকেই বঙ্গভূমির আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পরিচয়ের ভিত শক্ত হতে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে বাংলার সুলতানদের সঙ্গে চীনের মিং সাম্রাজ্যের দূত-বিনিময়ও বঙ্গভূমির আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ঐতিহাসিক গভীরতার প্রমাণ বহন করে।
স্বাধীন বাংলাদেশও জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে তার নিজস্ব অবস্থান তুলে ধরেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অংশগ্রহণ সেই ধারার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এবারের ভাষণও এই ধারায় নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত করতে যাচ্ছে। তিনি জাতিসংঘে ভাষণ দিতে যাওয়া তাঁর পরিবারের তৃতীয় সদস্য; এর আগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দিয়েছেন।
আধুনিক বিশ্বে কোনো দেশ একা বা বিচ্ছিন্ন হয়ে অর্থনৈতিকভাবে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে না। বর্তমান সময় পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা, কৌশলগত অংশীদারত্ব এবং অর্থনৈতিক কূটনীতির সময়। তাই নিউইয়র্ক সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যকে কূটনীতির সঙ্গে যুক্ত করা। প্রধানমন্ত্রী ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ২৫ সেপ্টেম্বর জেপি মরগানের আয়োজনে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি বৈঠকের কর্মসূচিও রয়েছে।
বাঙালি লোকজ প্রজ্ঞায় বলা হয়- ‘যেখানে জল পড়ে, সেখানেই জমি উর্বর হয়’। বৈশ্বিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনেকটা একই। বিদেশি বিনিয়োগ শুধু অর্থ আনে না; এর সঙ্গে আসে প্রযুক্তি, দক্ষতা, কর্মসংস্থান এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ। বাংলাদেশ যদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, আইনের শাসন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে অর্থনৈতিক কূটনীতি দেশের উৎপাদনশীল খাতে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমান বিশ্ব ক্রমেই বহুকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য কোনো একটি শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে বহুমাত্রিক সম্পর্ক বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, কুয়েত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধান বিবেচনা হওয়া উচিত জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা।
কূটনীতিতে ফাঁকা বুলি কিংবা কাগুজে সমঝোতার চেয়ে বাস্তব ফলাফল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যে ফাঁকা বুলি বিগত সাড়ে পনেরো বছরে দেখা গেছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার রক্ষা, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের স্বার্থ তুলে ধরা- এসবই অর্থনৈতিক কূটনীতির বাস্তব পরীক্ষার জায়গা। নিউইয়র্কের বৈঠকগুলো সেই বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের সবচেয়ে জরুরি বিষয়গুলোর একটি রোহিঙ্গা সংকট। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ দীর্ঘ মানবিক সংকটের ভার বহন করছে। এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনের সাইড ইভেন্টে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির প্রশ্নটি জোরালোভাবে তুলে ধরবে। দ্রুত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করাই এখানে বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের একার সমস্যা নয়; এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নের সঙ্গেও যুক্ত। ফলে জাতিসংঘের মঞ্চে এই সংকটকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা বাংলাদেশের জন্য কেবল মানবিক দায়িত্ব নয়, জাতীয় নিরাপত্তারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের অবস্থান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান তুলনামূলকভাবে কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতের ঝুঁকি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুতর। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা ও নদীভাঙনের মতো সমস্যা উপকূলীয় মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে। জাতিসংঘের ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক বৈঠকে বাংলাদেশ জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়গুলো তুলে ধরবে। ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির অস্তিত্বগত হুমকি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
একই দিনে মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু প্রতিরোধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মিডওয়াইফারি অন্তর্ভুক্তির ওপর আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন। এই কর্মসূচি দেখায়, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক কূটনীতি শুধু ভূ-রাজনীতি বা অর্থনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়নও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বৈশ্বিক বৈষম্যের প্রশ্নটিও এবারের সফরে গুরুত্ব পাচ্ছে। ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেনের যৌথ আয়োজনে বৈশ্বিক বৈষম্য মোকাবিলা নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন। এর পাশাপাশি তরুণ ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের মতো বিষয়ও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি দেশের মর্যাদা শেষ পর্যন্ত তার অভ্যন্তরীণ বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার, জবাবদিহি এবং সুশাসন যত শক্তিশালী হবে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থানও তত বেশি বিশ্বাসযোগ্য হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ ভাষণে দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাওয়ার কথা রয়েছে। ‘ঘর ভালো হলে তবেই বাহির সুন্দর দেখা যায়’। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে হলে দেশের ভেতরেও প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। জনগণের অধিকার, আইনের শাসন এবং জবাবদিহির প্রশ্নে দৃশ্যমান অগ্রগতি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে বাংলাদেশের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে পারে। কূটনীতি কেবল বৈঠক, ছবি কিংবা বক্তৃতার বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রের চরিত্র, অগ্রাধিকার ও সক্ষমতারও প্রতিফলন।
আজকের পরিবর্তনশীল, মেরুকৃত ও জটিল বিশ্বরাজনীতিতে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিজের স্বার্থ রক্ষা করে ভারসাম্য বজায় রাখা। আবেগ নয়, প্রজ্ঞা; সংঘাত নয়, সংলাপ; নির্ভরতা নয়, বহুমাত্রিক অংশীদারত্ব- তারেক রহমানের এই তিনটি নীতিই হতে পারে আগামী দিনের বাংলাদেশের কূটনীতির মূল ভিত্তি। ‘আবার সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’- এই নীতিকে বাস্তববাদী অর্থনৈতিক কূটনীতি, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সমন্বয় করার সুযোগ রয়েছে, যা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান আরো সুদৃঢ় হওয়ার প্রেক্ষাপট তৈরি হবে।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ সেই বৃহত্তর যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ইতিহাসের শিক্ষা, বর্তমানের বাস্তবতা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে একসূত্রে গাঁথতে পারলে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ শুধু নিজের কথা বলবে না; বরং একটি আত্মমর্যাদাশীল, শান্তিপ্রিয়, গণতান্ত্রিক ও সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র হিসেবে নিজের অবস্থান আরো দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করতে পারবে। নতুন বাংলাদেশের উদয়ের প্রকৃত অর্থ তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন বিশ্বমঞ্চের কূটনৈতিক সাফল্য দেশের মানুষের জীবন, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বাস্তব উন্নয়নে প্রতিফলিত হবে।
লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









