শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মেরাজের বিরুদ্ধে অনিয়ম, সমন্বয়হীনতা ও নাগরিক সেবা প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ এনে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছেন পরিষদের ১০ জন ইউপি সদস্য। তাঁর অপসারণ দাবি করে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তাঁরা।
ইউপি সদস্যদের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পরিষদের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে তাঁদের সঙ্গে সমন্বয় করছেন না। এ ছাড়া বয়স্ক ভাতা, টিউবওয়েল, সরকারি চাল বিতরণসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগকে ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ দাবি করে অস্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মেরাজ।
ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৩ সদস্যবিশিষ্ট চন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খান ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। এরপর পরিষদের ১ নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মেরাজ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
ইউপি সদস্যদের দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ ও সিদ্ধান্তের বিষয়ে তাঁদের যথাযথভাবে অবহিত করা হয় না। একই সঙ্গে বিভিন্ন নাগরিক সেবা দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া এবং পরে সেবা না দেওয়ার অভিযোগও তাঁরা পেয়েছেন বলে দাবি করেন।
এসব অভিযোগের মধ্যে গত বুধবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি ঝাড়ু মিছিল অনুষ্ঠিত হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার পরিষদের ১০ জন সদস্য তাঁর অপসারণ দাবি করে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করেন।
চন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কামরুজ্জামান বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদে কোনো উন্নয়নমূলক কাজ এলে আমাদের জানানো হয় না। এ ছাড়া বয়স্ক ভাতা, টিউবওয়েলসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়ার কথা বলে নাগরিকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া এবং পরে সেবা না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। টাকা ফেরত চাইলেও ফেরত দেওয়া হয় না বলে অনেকে জানিয়েছেন। এসব কারণে এলাকাবাসী তাঁর বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিলও করেছেন। তাঁর কার্যক্রমে আমরা সন্তুষ্ট নই। তাই ১০ জন সদস্য মিলে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছি।’
সংরক্ষিত নারী সদস্য সিজিয়া বেগম বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় না করেই বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। কোনো বিষয়েই আমাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয় না। এ কারণে আমরা ১০ জন সদস্য তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছি।’
তবে ইউপি সদস্যদের অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মেরাজ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ষড়যন্ত্রমূলক। আমি বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী। আর অভিযোগকারীরা আওয়ামী লীগের লোক। আমাকে দায়িত্ব থেকে সরানোর জন্য তাঁরা ষড়যন্ত্র করছেন। আগের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খানের নেতৃত্বে কয়েকজন লোক ইউনিয়ন পরিষদে এসে আমাকে অপমান-অপদস্থ করেছেন। তাঁরা ভাড়া করা লোক।’
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইলোরা ইয়াসমিন বলেন, ‘চন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মেরাজের বিরুদ্ধে পরিষদের ১০ জন সদস্য অনাস্থা প্রস্তাবসংক্রান্ত একটি আবেদন করেছেন। তাঁরা বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে কাজ করতে চান না বলে জানিয়েছেন। আবেদনটি পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









