স্থানীয় সরকার নির্বাচন দীর্ঘায়িত হওয়ায় জনগণ বিভিন্নভাবে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, সংবিধানের ১১, ৫৯ ও ৬০ নম্বর অনুচ্ছেদে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা ও নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ বিভাগের আয়োজনে ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ক মাস্টার ট্রেইনার প্রশিক্ষণ-২০২৬’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে মাস্টার ট্রেইনারদের দক্ষতা ও প্রস্তুতি বাড়ানোর লক্ষ্যে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আব্দুস সাদেক ভূইয়া।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সাফল্য ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক দুই ধরনের হতে পারে। কোনো দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে তা দুনিয়াবি অর্থে সামষ্টিক সাফল্য হলেও আখেরাতের সাফল্য ভিন্ন বিষয়। জামায়াত দুনিয়া ও আখেরাত উভয় ক্ষেত্রেই কল্যাণ অর্জনকে লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছে।
তিনি বলেন, ইসলামকে পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করে একটি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জামায়াত কাজ করছে। সমাজ ও রাষ্ট্রের ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রক্রিয়াই তাদের কাছে সংগ্রাম। প্রশাসনিক সিন্ডিকেট ভাঙতে হলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনগণের নেতৃত্বে আসতে হবে। একই সঙ্গে জনমতকে কার্যকর শক্তিতে পরিণত করতে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
স্থানীয় নির্বাচনে ভালো ফলাফল ভবিষ্যতে জাতীয় নির্বাচনেও সাফল্যের পথ তৈরি করতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যেই মাস্টার ট্রেইনারদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি গড়ে তুলে নির্বাচনী কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পরিবর্তে বিভিন্ন স্থানে প্রশাসক নিয়োগের সমালোচনা করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এর ফলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ছে। স্থানীয় নির্বাচন যত বিলম্বিত হবে, জনগণের দুর্ভোগ তত বাড়বে এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই জনগণের স্বার্থে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা প্রয়োজন।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া মাস্টার ট্রেইনারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে। স্থানীয় নির্বাচনে সংগঠনের প্রস্তুতি, জনসম্পৃক্ততা ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়িয়ে ভালো ফলাফল অর্জনে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে ভালো ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে সংগঠনের সাংগঠনিক দক্ষতা বাড়বে। এর ফলে ভবিষ্যতে জাতীয় নির্বাচনেও আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হবে। এ লক্ষ্যেই মাস্টার ট্রেইনারদের প্রশিক্ষিত করে মাঠপর্যায়ে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীর সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল, কোর ট্রেইনার ও মাস্টার ট্রেইনাররা অংশ নেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









