মহাকাশ আমাদের কাছে বরাবরই রহস্য আর বিস্ময়ের এক অনন্ত ভাণ্ডার। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অভিযান ও বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার মানবজাতির জ্ঞানের পরিধিকে আরও বিস্তৃত করছে। এবার সেই ধারাবাহিকতায় যুক্ত হতে যাচ্ছে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের একটি ফ্যালকন-৯ রকেটের উপরের ধাপ (আপার স্টেজ) অনিচ্ছাকৃতভাবে চাঁদের বুকে আছড়ে পড়তে যাচ্ছে। যদিও এ ঘটনায় পৃথিবীর কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই, তবে এটি বিজ্ঞানীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার সুযোগ তৈরি করবে।
বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় চার হাজার কিলোগ্রাম ওজনের রকেটের অংশটি ঘণ্টায় প্রায় ৮,৬৯০ কিলোমিটার বেগে চাঁদের উত্তর গোলার্ধে আইনস্টাইন ক্রেটারের কাছে আঘাত হানবে। সংঘর্ষের ফলে চাঁদের পৃষ্ঠে একটি নতুন গর্ত সৃষ্টি হবে এবং বিপুল পরিমাণ ধুলাবালি ও শিলাখণ্ড মহাশূন্যে ছিটকে উঠবে। গবেষকদের আশা, এই ধ্বংসাবশেষ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে চাঁদের মাটি, ধুলিকণার গতিবিধি এবং মহাকাশীয় সংঘর্ষের প্রভাব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা যাবে।
স্পেসএক্স জানিয়েছে, রকেটটি নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে নিরাপদ কক্ষপথে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সূর্যের কার্যকলাপ ও মহাকর্ষীয় প্রভাবের কারণে এর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে চাঁদের দিকে চলে যায়।
মাহাকাশ বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী মানব উপস্থিতি নিশ্চিত করতে মহাকাশের ধ্বংসাবশেষের আচরণ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন অত্যন্ত জরুরি। তাই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও মহাকাশ গবেষণায় মূল্যবান তথ্য যোগ করবে। বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি অপেশাদার জ্যোতির্বিজ্ঞানীরাও এই বিরল দৃশ্য পর্যবেক্ষণের অপেক্ষায় রয়েছেন।
একটি দুর্ঘটনাজনিত সংঘর্ষই হয়তো ভবিষ্যতের চন্দ্র অভিযানের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









