দার্শনিক ডেমোক্রিটাসের এই বাণীটি অত্যন্ত গভীর এবং চিরন্তন সত্য। তিনি হাজার বছর আগেই অনুধাবন করেছিলেন যে, জাগতিক ধন-সম্পদ মানুষকে সাময়িক আরাম বা বিলাসিতা দিতে পারলেও প্রকৃত মানসিক শান্তি বা সুখ এনে দিতে পারে না।
ডেমোক্রিটাসের এই দর্শনের উল্লেখ পাওয়া যায় তার নৈতিক দর্শনবিষয়ক সংরক্ষিত খণ্ডিত রচনাবলিতে। বিশেষ করে ‘ইউথাইমিয়া’ বা মনের প্রশান্তি বিষয়ক ধারণায় তিনি সুখ ও মানসিক সন্তুষ্টির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে সম্পদ প্রকৃত সুখ দিতে পারে না—এ কথাটি তার হুবহু উদ্ধৃতি হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট গ্রন্থ বা অধ্যায়ে পাওয়া যায় কি না, তা নিশ্চিত নয়।
ডেমোক্রিটাসের দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আত্মিক সন্তুষ্টি। তিনি মনে করতেন, সুখ কোনো বাহ্যিক বস্তু নয়; বরং এটি মানুষের মনের একটি অবস্থা। নিজের চিন্তাভাবনা, সততা ও সন্তুষ্টির মধ্য দিয়েই মানুষ প্রকৃত সুখ খুঁজে পেতে পারে।
তিনি বস্তুগত সম্পদের সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেছেন। তার মতে, অর্থ ও সম্পত্তি সাময়িক আনন্দ দিলেও স্থায়ী মানসিক তৃপ্তি নিশ্চিত করতে পারে না। বরং অতিরিক্ত সম্পদের প্রতি মোহ মানুষের মানসিক শান্তি নষ্ট করতে পারে।
ডেমোক্রিটাসের ‘ইউথাইমিয়া’ ধারণা এমন এক মানসিক অবস্থাকে বোঝায়, যেখানে ভয়, অন্ধবিশ্বাস ও লোভ মানুষকে বিচলিত করতে পারে না। তার দর্শনের মূল কথা হলো, প্রকৃত সুখ খুঁজতে হলে বাইরের সম্পদের পরিবর্তে নিজের মনের শান্তি ও সন্তুষ্টির দিকে মনোযোগ দিতে হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









