ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় দিনটাও বাংলাদেশের। প্রথম দিনে ১৯৮ রানে অস্ট্রেলিয়াকে অলআউট করার পর দ্বিতীয় দিন ব্যাট হাতে দারুণ দৃঢ়তা দেখিয়েছে বাংলাদেশ। দিন শেষে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান বাংলাদেশের। লিড দাঁড়িয়েছে ১৫৩ রানের।
বাংলাদেশের এই অবস্থানের মূল কারিগর তানজিদ হাসান। ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্টেই প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ১৯৭ বলের ইনিংসে ৮টি চার ও একটি ছক্কায় ১০১ রান করেছেন তিনি। সাদা বলের ক্রিকেটে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত তানজিদ এবার টেস্টের দাবি মেনে খেলেছেন ধৈর্য ধরে, পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় উইকেটে থেকে।

শুধু তানজিদের সেঞ্চুরিই নয়, বাংলাদেশের ইনিংসের ভিত তৈরি হয়েছে একাধিক জুটিতে। দ্বিতীয় উইকেটে তানজিদ ও মুমিনুল হক যোগ করেন ১০২ রান। মুমিনুল ৪৯ রান করে আউট হওয়ার আগে টেস্টে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়ে ছাড়িয়ে গেছেন তামিম ইকবালকে।
এরপর তানজিদের সঙ্গে ৯৩ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। শান্তর ব্যাট থেকেও এসেছে দারুণ ৮৪ রান। ১২৬ বলের ইনিংসে সাতটি চার ও একটি ছক্কা মেরেছেন তিনি। তবে সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়েও তা পূর্ণ করতে না পারার আক্ষেপ থাকবেই।
দ্বিতীয় নতুন বল হাতে নেওয়ার পর অবশ্য কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। মাত্র ৪.৫ ওভারের মধ্যে তিন উইকেট তুলে নেয় তাদের তিন পেসার। জশ হ্যাজলউডের বলে শান্ত, মিচেল স্টার্কের বলে লিটন দাস এবং প্যাট কামিন্সের বলে মুশফিকুর রহিম ফিরে যান। তিনটি ক্যাচই নেন স্টিভেন স্মিথ।
স্মিথের জন্যও দিনটি ছিল বিশেষ। এই তিন ক্যাচ নিয়ে টেস্টে উইকেটকিপার নন—এমন ফিল্ডার হিসেবে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ নেওয়ার তালিকায় জো রুটের সঙ্গে সমতায় উঠেছেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়া তখন আশা করেছিল, বাংলাদেশের নিচের সারির ব্যাটারদের দ্রুত ফিরিয়ে দিয়ে ইনিংস গুটিয়ে ফেলবে। কিন্তু মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ সেই সুযোগ দেননি। দুজন মিলে ৪৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দিন শেষ করেছেন। নতুন বলের উজ্জ্বলতা সামলে প্রথমে উইকেটে টিকে থাকাই ছিল লক্ষ্য, পরে সুযোগ বুঝে কয়েকটি দারুণ ড্রাইভে রানও বাড়িয়েছেন তারা।
তানজিদ ও মুমিনুলের ব্যাটেই অবশ্য দিনের শুরুটা বাংলাদেশের পক্ষে চলে যায়। দুজনই অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের বল ছেড়ে খেলেছেন, অপেক্ষা করেছেন রান করার সঠিক সুযোগের। প্রথম ঘণ্টায় এসেছে মাত্র তিনটি চার। এরপর বিউ ওয়েবস্টারকে ছক্কা মেরে তানজিদ তুলে নেন শতরানের জুটি।

মুমিনুল অবশ্য পরের ওভারেই হ্যাজলউডের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। ৪৯ রানের ইনিংসটি শেষ পর্যন্ত আক্ষেপের হয়ে থাকে। অন্যদিকে ৬২ রানে জীবন পাওয়ার পর তানজিদ আর পেছনে ফিরে তাকাননি। নাথান লায়নের বলে কাট করতে গিয়ে তার ক্যাচ ফেলেছিলেন স্মিথ।
লাঞ্চের পর হ্যাজলউডকে লফটেড ড্রাইভে চার মেরে এগিয়ে যান তানজিদ। পরে স্টার্ককে গ্লাইড করে চার মেরে বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের রান ছাড়িয়ে দেন। নব্বইয়ের ঘরে পৌঁছানোর পর অবশ্য কিছুটা নার্ভাস হয়ে পড়েছিলেন। শান্ত তখন বেশি করে স্ট্রাইক নিয়ে তাকে সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে দেন।
শেষ পর্যন্ত লং-অফে এক রান নিয়ে তিন অঙ্ক ছুঁয়ে ফেলেন তানজিদ। দ্বিতীয় টেস্টেই সেঞ্চুরি—বাংলাদেশের জন্য দিনটির সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। পরের ওভারেই লায়নের বলে আউট হলে ডারউইনের দর্শকদের কাছ থেকে পান উষ্ণ অভ্যর্থনা।
অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় নতুন বলের আঘাতে তিন উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়লেও শেষ পর্যন্ত দিনটি বাংলাদেশেরই। মেহেদী ও হাসান মাহমুদের প্রতিরোধে সেই চাপও কেটে গেছে। ১৫৩ রানের লিড নিয়ে তৃতীয় দিনে নামবে বাংলাদেশ। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন স্পষ্টভাবেই তাদের হাতে।
সূত্র: ক্রিকইনফো


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









