লিওনেল মেসির জীবনে প্রতিপক্ষের অভাব কখনো ছিল না। মাঠে একের পর এক রক্ষণভাগ ভেঙেছেন, গোল করেছেন, জিতেছেন অসংখ্য শিরোপা। কিন্তু সবচেয়ে কঠিন লড়াইটা ছিল নিজের সঙ্গে। প্রতিটি ম্যাচে আগের দিনের চেয়ে ভালো হওয়ার যে তাগিদ, সেটিই তাকে নিয়ে গেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ শিখরে। আবার এই তাগিদই কেড়ে নিয়েছে আনন্দ করে বাঁচার অনেক মুহূর্ত।
মেসি এমন একজন ফুটবলার, যিনি কথা বলার চেয়ে বল পায়ে বেশি স্বচ্ছন্দ। ছোটবেলায় তার দাদি সেলিয়া তাকে গ্রানদোলির ফুটবল দলে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে শুরু হওয়া যাত্রা তাকে এনে দিয়েছে বিশ্বজোড়া পরিচিতি। বার্সেলোনায় কাটানো সময়, আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ জয়—সবকিছু মিলিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক নাম।
তবে সাফল্যের এই গল্পের আড়ালেও ছিল চাপ, হতাশা আর নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার অবিরাম চেষ্টা। বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনার হয়ে একসঙ্গে সুখী হতে পারেননি তিনি। জাতীয় দলের হয়ে শিরোপা জিততে না পারায় সমালোচনাও শুনেছেন। একসময় আর্জেন্টিনার জার্সি তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও পরে ফিরেছেন। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকা জয় তাকে দিয়েছে দেশের মানুষের ভালোবাসা।
কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেসি বুঝতে পারছেন, প্রতিটি মুহূর্তে সেরা হওয়া সম্ভব নয়। তার মাথায় যে ফুটবল খেলে, পা সব সময় সেই গতিতে সাড়া দেয় না। যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলার পাশাপাশি এখন সামনে রয়েছে ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়। ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তি তাকে সময় দিচ্ছে, তবে সেই সময়ের অর্থ বদলে যাচ্ছে।

এখন পুরস্কার, সংবর্ধনা আর মানুষের ভালোবাসা হয়তো তাকে নতুন করে ভাবতে শেখাচ্ছে। ওভিয়েদোতে শিশুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, ফুটবল যেমন জীবন শেখায়, তেমনি পড়াশোনা ও ভাষা শেখাও জরুরি।
মেসির সামনে এখন নতুন প্রতিপক্ষ—নিজের প্রত্যাশা। প্রতিদিন মেসি হয়ে ওঠার চাপ থেকে বেরিয়ে এসে নিজের অর্জন উপভোগ করাই হয়তো তার সবচেয়ে বড় জয়। কারণ, সবকিছু জেতার পর কখনো কখনো নিজের জন্য বাঁচতে শেখাটাই সবচেয়ে কঠিন কাজ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









