বিরতির পর চার ম্যাচে তিন গোল ও তিন অ্যাসিস্ট। রিয়াল মাদ্রিদের আইভরিয়ান ফরোয়ার্ড দিয়োমান্দেকে নিয়ে কোচ হোসে মরিনহোর পরিকল্পনা যে কাজে দিচ্ছে, মাঠের পারফরম্যান্সই তার প্রমাণ।
দিয়োমান্দে যেন নিজের সামর্থ্যের সবটুকু মেলে ধরতে শুরু করেছেন। আন্তর্জাতিক বিরতির পর রিয়াল মাদ্রিদের সবচেয়ে কার্যকর খেলোয়াড় এখন তিনি। এমনকি গোল ও গোলে সহায়তার হিসাবেও ছাড়িয়ে গেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পেকে।
বিরতির পর ২৭৪ মিনিট মাঠে থেকে তিন গোল ও তিনটি গোলে সহায়তা করেছেন দিয়োমান্দে। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে করেছেন গোল, রোমার বিপক্ষে অ্যাসিস্ট, সেভিয়ার বিপক্ষে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট এবং লাইপজিগের বিপক্ষেও গোল ও অ্যাসিস্ট—সব মিলিয়ে চার ম্যাচে ছয়টি গোলে সরাসরি অবদান।
অন্যদিকে, এমবাপ্পে ৩৫২ মিনিট খেলে চার গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেছেন। আরদা গুলার ২৬৪ মিনিটে করেছেন দুটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট।
আস্থার প্রতিদান দিচ্ছেন দিয়োমান্দে
দিয়োমান্দের ব্যক্তিগত দক্ষতা শুরু থেকেই মুগ্ধ করেছিল মরিনহোকে। তার গতি, প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে ওঠার ক্ষমতা, নিখুঁত ফিনিশিং এবং বল পায়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা কোচের নজর এড়ায়নি। তবে প্রতিভা থাকলেই যে সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাশা পূরণ করা যায় না, সেটিও বুঝেছিলেন মরিনহো। তরুণ এই আইভরিয়ান খেলোয়াড়ের বয়স ও মানসিকতার কথা বিবেচনা করে তাকে মানিয়ে নেওয়ার সময় দিতে চেয়েছিলেন পর্তুগিজ কোচ। ১২ কোটি ৫০ লাখ ইউরোর বিশাল ট্রান্সফার ফি তার ওপর প্রত্যাশার চাপ তৈরি করেছিল। শুরুর দিকে মাঠে নামার সুযোগ পেলেও সেই চাপ থেকে বেরিয়ে আসা সহজ ছিল না।
কিন্তু মরিনহো নিজের পরিকল্পনা থেকে সরে আসেননি। খেলোয়াড়টির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন, ব্যক্তিগত সমস্যা ও মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জগুলো বোঝার চেষ্টা করেছেন। প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতেও সাহায্য করেছেন। এখন দিয়োমান্দের পারফরম্যান্সই কোচের সেই ধৈর্যের জবাব দিচ্ছে। টানা চার ম্যাচে গোল কিংবা গোলে সহায়তা করে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন তিনি। আর এই ছন্দে ফেরার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নিষেধাজ্ঞা। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড মাঠের বাইরে থাকায় বাঁ প্রান্তে খেলার সুযোগ পেয়েছেন দিয়োমান্দে।

রিয়াল মাদ্রিদে আসার পর ভিনিসিয়ুসই ছিলেন তার অন্যতম অনুপ্রেরণা। তবে চলতি মৌসুমের পরিসংখ্যান বলছে, গোল করার দক্ষতা ও ড্রিবলিংয়ে এখন পর্যন্ত ব্রাজিলিয়ান তারকাকে পেছনে ফেলেছেন দিয়োমান্দে।
ভিনিসিয়ুস ২৮টি শট নিয়েও গোল করেছেন মাত্র একটি। এর মধ্যে লক্ষ্যে ছিল ৯টি শট। অন্যদিকে, দিয়োমান্দে ১৩টি শট নিয়ে করেছেন তিন গোল। তার পাঁচটি শট ছিল লক্ষ্যে। অর্থাৎ, গোল পেতে দিয়োমান্দের প্রয়োজন হচ্ছে গড়ে চারটির কিছু বেশি শট, যেখানে ভিনিসিয়ুসের লেগেছে ২৮টি। ড্রিবলিংয়েও এগিয়ে আইভরিয়ান ফরোয়ার্ড। প্রতি ৯০ মিনিটে গড়ে ৫.১১টি সফল ড্রিবল সম্পন্ন করছেন তিনি। বিপরীতে ভিনিসিয়ুসের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ২.৯৯।
মরিনহোর পরিকল্পনা সফল, তবে কাজ বাকি
দিয়োমান্দের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট মরিনহো। খেলোয়াড়টিকে নিয়ে নিজের ও কোচিং স্টাফের পরিকল্পিত পরিশ্রম যে দ্রুত ফল দিতে শুরু করেছে, তা বুঝতে পারছেন তিনি। তবে দিয়োমান্দেকে এখনই পরিপূর্ণ খেলোয়াড় মনে করছেন না কোচ।
বিশেষ করে রক্ষণাত্মক দায়িত্ব পালনে আরও উন্নতি চান মরিনহো। বল ছাড়া অবস্থায় প্রতিপক্ষকে চাপ দেওয়া, নিজের অবস্থান ধরে রাখা এবং দলের ফুলব্যাককে সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে দিয়োমান্দেকে আরও কার্যকর হতে হবে। আক্রমণেও ধারাবাহিকতা বাড়ানো জরুরি। শুধু কয়েকটি ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্স নয়, পুরো মৌসুমজুড়ে নির্ভরযোগ্য হয়ে ওঠাই মরিনহোর লক্ষ্য। দিয়োমান্দেকে নিয়ে তার পরিকল্পনা ইতিমধ্যে ফল দিতে শুরু করেছে। তবে কোচের চোখে, এটি কোনো কাজের সমাপ্তি নয়; বরং আরও বড় হয়ে ওঠার যাত্রার শুরু।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









