চলতি সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর—আগামী তিন মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টিপাত কম হতে পারে। একই সময়ে বঙ্গোপসাগরে চার থেকে ছয়টি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে এক বা দুটি নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে এবং একটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসের দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান ও পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. মমিনুল ইসলাম সম্প্রতি এ পূর্বাভাস জারি করেন।
বাড়তে পারে তাপমাত্রা, আসতে পারে তাপপ্রবাহ
আগামী তিন মাসে দেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময়ে তিন থেকে পাঁচ দফা মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, মৃদু তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মাঝারি তাপপ্রবাহে ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। পাশাপাশি এ সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৬ থেকে ১০ দিন বজ্রঝড় হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সেপ্টেম্বরেই কমতে পারে বৃষ্টি
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের কাছাকাছি থাকতে পারে। তবে সার্বিকভাবে এ মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অক্টোবরে বৃষ্টিপাত আরও কমতে পারে। নভেম্বরেও বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিকের নিচে থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
সেপ্টেম্বরে বিভাগভিত্তিক সম্ভাব্য বৃষ্টিপাতের পরিমাণ হলো—ঢাকায় ২৫০ থেকে ২৮০ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ৩৩০ থেকে ৩৬০, সিলেটে ৩৬০ থেকে ৩৮০, ময়মনসিংহে ৩১০ থেকে ৩৩০, রাজশাহীতে ২৬০ থেকে ২৮০, রংপুরে ৩৭০ থেকে ৩৯০, খুলনায় ২৭০ থেকে ২৯০ এবং বরিশালে ৩২০ থেকে ৩৪০ মিলিমিটার।
অক্টোবরে ঢাকায় ১৪০ থেকে ১৮০ মিলিমিটার, ময়মনসিংহে ১৬০ থেকে ২১০, চট্টগ্রামে ২০০ থেকে ২৪০, সিলেটে ১৬০ থেকে ২২০, রাজশাহীতে ১২০ থেকে ১৪০, রংপুরে ১৩০ থেকে ১৮০, খুলনায় ১২০ থেকে ১৭০ এবং বরিশালে ২১০ থেকে ২৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে।
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা
সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে বঙ্গোপসাগরে চার থেকে ছয়টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর মধ্যে এক থেকে দুটি লঘুচাপ নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি এর একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলেও পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সামগ্রিক বৃষ্টিপাত কম থাকার সম্ভাবনা থাকলেও সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও লঘুচাপের প্রভাবে কোনো কোনো সময়ে ভারি বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফলে বর্ষা বিদায় নেওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি থাকতে পারে।
আগস্টে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যালোচনা অনুযায়ী, সদ্য শেষ হওয়া আগস্টে সারাদেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হয়েছে। অন্য বিভাগগুলোতে বৃষ্টিপাত ছিল কম। এ মাসে বঙ্গোপসাগরে মোট চারটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছিল।
আগস্টে দেশের সর্বোচ্চ ১৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ৫ আগস্ট চট্টগ্রামের হাতিয়ায়। এ মাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয় ২৭ আগস্ট রাজশাহীতে। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে রেকর্ড করা হয়।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, পুরো আগস্ট মাসেই দেশের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ছিল।
আবহাওয়াবিদদের মতে, সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের এ প্রবণতা কৃষি, নদ-নদীর প্রবাহ এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট দিনের আবহাওয়া সম্পর্কে জানতে নিয়মিত আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









