চুয়াডাঙ্গায় টানা এ সপ্তাহ ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। দিনের বেলায় আকাশ পরিষ্কার থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। রোববার সকাল ৯ টায় জেলায় চলতি শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (৫ জানুয়ারী) একই সময়ে তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারী) ৭ দশমকি ৫ ডিগ্রি, বুধবার (৭ জানুয়ারী) ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি, বৃহস্পতিবার ( ৮ জানুয়ারী) ৮ ডিগ্রি, শুক্রবার (৯ জানুয়ার) ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি, শনিবার (১০ জানুয়ারী) ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১০ ডিগ্রির নিচে তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ায় এ জেলায় অব্যাহত রয়েছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ।
স্থানীয়রা বলছেন, সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত প্রচন্ড শীত পড়ছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায়। উত্তরের প্রবাহিত হিমেল হাওয়ায় শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। গত ৬ দিন ধরে ১০ ডিগ্রির নিচে তাপমাত্রা রেকর্ডের মধ্য দিয়ে জেলায় উপর বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। গ্রামগুলোতে খড়কুটো, কাগজের কাটন, টায়ার জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করতে দেখা যায়। তবে বেলা বাড়তে থাকলে কেটে যায় কনকনে শীতের প্রভাবও।
ঝলমলে রোদের দেখা মিলছে সকাল থেকেই। রোদ উঠে যাওয়ায় বেড়েছে কর্মব্যস্ততা। বেলা বাড়তেই কমে যাচ্ছে শীতের তীব্রতা। সকাল সকাল কাজে বেড়িয়ে পড়েছেন বিভিন্ন নিম্ন আয়ের মানুষ।
শীতে বেড়েছে সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত বিভিন্ন রোগব্যাধি। প্রতিদিনই জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে বেড়েছে রোগীর সংখ্যা। যারা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তারাই কেবল হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। চিকিৎসকরা চিকিৎসার পাশাপাশি শীতে সুরক্ষা থাকতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, জেলায় টানা এক সপ্তাহ ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে এবং এটি আগামী ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এই সময়ে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করবে। এরপর ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









