‘মিস ওয়ার্ল্ড’ বা ‘মিস ইউনিভার্স’ নামে যত সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা হয়েছে তার প্রায় সবগুলোই নানা নাটকীয়তা, কেলেঙ্কারি, মামলা এবং নানা অঘটনের মুখোমুখি হয়েছে। যেমন- জয়ের পরপরই পরস্পর চুম্বন করায় পদত্যাগ, 'প্লেবয়' সাময়িকীর জন্য পোজ দেওয়ায় খেতাব কেড়ে নেওয়া, হাজার হাজার ডলারের মামলা করা, মিস টিন লুসিয়ানার পার্সে গাজা পাওয়ায় তার খেতাব কেড়ে নেওয়া, মিস জিম্বাবুয়ে এমিলি কাচোতের পোশাক খোলামেলা হওয়ায় খেতাব হারানো, কারো বিজয় মুকুট ছিনিয়ে নেওয়া, ট্রান্সজেন্ডার এবং বর্ণবাদী বিতর্ক ইত্যাদি।
মিস নেভাদা ইউএসএর চুম্বন বিতর্ক: ২০০৭ সালের মিস নেভাদা ইউএসএ জয়ের পরপরই কেটি রীস অন্য প্রতিযোগীদের চুম্বন করার কিছু বিতর্কিত ছবি অনলাইনে ভেসে ওঠে, যা তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করে।
মিস গ্রেট ব্রিটেনের প্রেম: মিস গ্রেট ব্রিটেন ২০০৬-এর খেতাব জয়ের পর ড্যানিয়েল লয়েডের খেতাব কেড়ে নেওয়া হয় যখন প্রকাশ পায় যে তিনি 'প্লেবয়' সাময়িকীর জন্য পোজ দিয়েছিলেন এবং একজন বিচারকের সাথে প্রেম করছিলেন। আয়োজকদের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপরাধে পেজেন্ট আয়োজকরা লয়েডের বিরুদ্ধে হাজার হাজার ডলারের মামলা করেন।
মিস টিন লুসিয়ানার ব্যাগে গাঁজা: মিস টিন লুসিয়ানা ২০০৮ সালে একটি রেস্তোরাঁ থেকে তড়িঘড়ি করে বেরিয়ে যান; বিল না মিটিয়ে তিনি ফেলে যান তার পার্স, যার মধ্যে নাকি এক ব্যাগ গাঁজা ছিল। তার খেতাব কেড়ে নেওয়া হয়, তবে প্লেবয় পরের বছর তাকে স্বাগত জানায়।
মিস জিম্বাবুয়ের অনাবৃত ছবি: মিস জিম্বাবুয়ে ২০১৫ বিজয়ী হওয়ার দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে তার পদ খোয়ান, যখন ইন্টারনেটে কাচোতের অনাবৃত ছবি ভেসে ওঠে। পেজেন্টের নিয়মে প্রতিযোগীদের একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে হয় যে তারা কখনো অনাবৃত পোজ দেননি এবং জিতলে ভবিষ্যতেও দেবেন না।
মিস আমাজনের মুকুট ছিনতাই: ব্রাজিলিয়ান বিউটি পেজেন্ট চলাকালীন, শেসলান হায়ালা নামের এক প্রতিযোগী মিস আমাজন বিজয়ী ক্যারল টোলেডোর মাথা থেকে সরাসরি মুকুটটি ছিনিয়ে নেন এবং বাকরুদ্ধ, আতঙ্কিত ও করতালি দেওয়া দর্শকদের সামনে থেকে রাগে স্টেজ থেকে বেরিয়ে যান।
জেনা তালাকোভার লিঙ্গ ধারণা: ২০১২ সালের মিস ইউনিভার্স কানাডা প্রতিযোগিতার শীর্ষে পৌঁছানোর পথেই ছিলেন এই মডেল, কিন্তু আয়োজকরা যখন জানতে পারেন যে তিনি একজন ট্রান্সজেন্ডার (রূপান্তরকামী), তখন তাকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। কারণ তাদের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিযোগীদের ‘জন্মগত নারী’ হতে হতো। একজন আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের পিটিশন নিয়ে তালাকোভা ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ আয়োজকদের এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ জানান। মামলা আদালতে যাওয়ার আগেই তারা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে এই ভিত্তিতে যে, তালাকোভা ‘কানাডার আইনি লিঙ্গ স্বীকৃতির মানদণ্ড’ পূরণ করেছেন। মিস ইউনিভার্স সংস্থা এর পরপরই ট্রান্সজেন্ডার প্রতিযোগীদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।
মিস আমেরিকার বর্ণবাদ: নিনা দাভুলুরির জয় দৃশ্যত টুইটারে বর্ণবাদী ট্রোলদের উসকে দিয়েছিল, যারা কেবল তার গায়ের রঙের কারণে তাকে সন্ত্রাসী হিসেবে অভিহিত করতে শুরু করে। অজ্ঞ ট্রোলরা এও মন্তব্য করেছিল যে, ৯/১১ হামলার ১২তম বার্ষিকীর চার দিন পর বিউটি পেজেন্ট অনুষ্ঠিত হওয়ায় একজন বাদামী রঙের নারীকে মিস আমেরিকা হিসেবে বেছে নেওয়াটা দেশপ্রেমের পরিপন্থী ছিল।
মিস ইউনিভার্স কানাডার ২৪ ঘণ্টার স্বপ্ন: মিস ইউনিভার্স কানাডা ২০১৩ হিসেবে মুকুট পরার ২৪ ঘণ্টারও কম সময় পর ডেনিস গ্যারাইডোকে বলা হয়েছিল যে, একটি ভুল হয়েছে এবং আসল বিজয়ী হলেন রিজা সান্তোস। এরপর তিনি সবচেয়ে দারুণ কাজটা করেন—তিনি তার টুইটার বায়ো বদলে লেখেন, ‘মিস ইউনিভার্স কানাডা ২০১৩ [ ২৪ ঘণ্টা )’ ]


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









