বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করলেই কেউ ভালো মানুষ হয়ে ওঠে না, যদি তার মধ্যে ইসলামের শিক্ষা ও মূল্যবোধ না থাকে। শিক্ষিত মানুষেরাই বড় ধরনের দুর্নীতিতে জড়াচ্ছে এবং ইসলামহীন শিক্ষার কারণেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়- এ ‘ধর্ষণের সেঞ্চুরি’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম।
শনিবার (২৫ জুলাই) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের(কুবি) কেন্দ্রীয় মসজিদে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে জুলাই শহীদদের স্মরণ আয়োজিত এক দোয়া মাহফিল ও ইসলাহী ইজতেমায় এই মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি সেখানে ঈমান ও আমলের ফজিলত, শরিয়তের বিভিন্ন বিষয় এবং ইসলামী জীবনব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি ইসলামের মৌলিক বিধান পালন এবং কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনার আহ্বান জানান। আলোচনা শেষে জুলাই শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন। পরে বিজয়-২৪ হলের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘শহীদ আব্দুল কাইয়ুম স্মৃতি মেডিকেল বক্স’-এর উদ্বোধন করেন।
তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রজীবনে বৈরী পরিবেশে ঈমান নিয়ে মহান আল্লাহ তাআলার ইবাদত করার পুরস্কার অন্য পরিবেশে আমল করার তুলনায় বেশি হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা মানুষকে মানুষ বানাতে পারে না। বাংলাদেশের টাকা আত্মসাৎ, অন্যায়, দুর্নীতি সবচেয়ে বেশি করে শিক্ষিত মানুষেরা। শিক্ষা যদি মানুষকে মানুষ বানাতে পারতো তাহলে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটিতে একশো ধর্ষণ করে সেঞ্চুরি কারা পালন করছে? সব শিক্ষিতরা। এজন্য শিক্ষার সাথে থাকতে হবে ইসলামী মূল্যবোধ।”
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অনুমতি না থাকলেও মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। তবে তার সঙ্গে আগত নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে আসরের নামাজ আদায় করেন।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনুমতি দিতেও পারে, নাও দিতে পারে এটি তাদের এখতিয়ার। এর সঙ্গে অন্য কোনো বিষয়ের সম্পর্ক আছে বলে আমি মনে করি না। আমি আসলে কারও বিরুদ্ধে কথা বলিনি। আমি শুধু এমন কিছু ফরজ বিষয় নিয়ে কথা বলেছি, যেগুলো মানুষ অবহেলা করে। আমাদের স্থায়ী কোনো শত্রু বা স্থায়ী কোনো বন্ধু নেই। একজন মুমিনেরও স্থায়ী শত্রু বা বন্ধু থাকা উচিত নয়। আজ যদি কোনো অন্যায়কারী তওবা করে, তবে সে আমার বন্ধু। আবার কেউ যদি খারাপ কাজে লিপ্ত হয়, তবে সে আমার শত্রু।”
কুবি শাখা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আবছার উদ্দিন ইফতি বলেন, “প্রোগ্রামটা সুন্দরভাবে শেষ করতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী,কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাংবাদিক বন্ধুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। জুলাই শহীদ আব্দুল কাইয়ুমের স্মরণে আমরা একটি ‘শহীদ আব্দুল কাইয়ুম স্মৃতি মেডিকেল বক্স’ স্থাপন করেছি।আমরা এ ধরনের শিক্ষার্থীরা বান্ধব কাজ অব্যাহত রাখবো।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









