আদিবাসী জনগোষ্ঠীর শিল্প, সাহিত্য, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী ‘আদিবাসী উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ‘ইভেন্ট ও প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট’ কোর্সের ব্যবহারিক পরীক্ষার অংশ হিসেবে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় এ আয়োজন করা হয়।
সকালে আদিবাসী নৃত্য ও সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উৎসব শুরু হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. ইসমত আরা ভূইয়া ইলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইমদাদুল হুদা।

উৎসবে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা জাতীয় পদক-২০২৫ প্রাপ্ত উন্নয়নকর্মী, লেখক ও গবেষক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা, কবি ও সাহিত্যিক পরাগ রিসিল এবং বিরিশিরির পরিচালক প্রিংসন সাংমা।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে অতিথি ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে আদিবাসী শিল্প-সংস্কৃতি নিয়ে বিশেষ আড্ডা এবং ‘বহমান আমারও পদচিহ্ন’ শীর্ষক জীবন-অভিজ্ঞতা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়বিষয়ক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
বিকেলের আয়োজনে ছিল ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, মারমা রূপকথা নিয়ে গল্প বলার আসর ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এতে শব্দকুঞ্জ আবৃত্তি সংগঠন, ড্রামা চেম্বার, নজরুল ইউনিভার্সিটি ব্যান্ড মিউজিক সোসাইটি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্যান্স ক্লাব ও ষড়ঙ্গ ব্যান্ড অংশ নেয়। পাশাপাশি উৎসব প্রাঙ্গণে বিভিন্ন স্টলে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী খাবার ও জীবনধারার নানা উপাদান প্রদর্শন করা হয়।
আয়োজনের বিষয়ে কোর্সটির তত্ত্বাবধায়ক ও বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মাজহারুল হোসেন তোকদার বলেন, ব্যবহারিক কোর্সের অংশ হিসেবে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নিজস্ব পরিচয় ও সংস্কৃতির প্রতি সংহতি প্রকাশ করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ উৎসব বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বহুত্ববাদী সমাজচর্চাকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









