মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলে মাজারের ভেতর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক কর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের ভিটি হোগলাকান্দি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
পরে রাত ১২টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি।
নিহত ব্যক্তির নাম জাহিদ বেপারী (৫০)। তিনি ভিটি হোগলাকান্দি এলাকার প্রয়াত তোতা বেপারীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন। পরিবারের দাবি, তিনি আ. লীগের কর্মী ছিলেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, জাহিদ বেপারী বুধবার রাতে স্থানীয় হযরত দয়াল বাবা সমশের রুহুল আমিন শাহ (রহ.)-এর মাজারে অবস্থান করছিলেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রতিবেশী ফরিদ বেপারী (৫৬) ছুরি হাতে দৌড়ে মাজারে প্রবেশ করেন। সেখানে জাহিদ বেপারীকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করতে থাকেন।
পরে মাজারের ভেতরে থাকা কয়েকজন নারী জাহিদ বেপারীকে উদ্ধার করে প্রথমে তার বাড়িতে, সেখান থেকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নাসিমা বেগম বলেন, ‘‘মাজারের ভেতরে আমরা পাঁচজনের মতো নারী ছিলাম। আমরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করি। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর ফরিদকে থামাতে সক্ষম হই। এর মধ্যে জাহিদের মাথায় অসংখ্য ছুরিকাঘাত করা হয়।’’
তিনি রলেন, ‘‘শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাত করা হয়। জাহিদ ফরিদকে জিজ্ঞাসা করছিলেন, কেন তাকে এভাবে কোপানো হচ্ছে। ফরিদ কোনো উত্তর দেননি।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘পরে জাহিদ তাদের অনুরোধ করেন বাড়িতে পৌঁছে দিতে। তারা তাকে বাড়িতে নিয়ে যেতে চাইলে ফরিদ বাধা দেন। পরে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।’’
এদিকে এলাকায় খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, জাহিদ বেপারীর সঙ্গে ফরিদ বেপারীর স্ত্রীর পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। ঘটনাটি ফরিদ কিছুদিন আগে জানতে পারেন। এ ঘটনায় ফরিদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ছিল। এ ছাড়া ফরিদ ও জাহিদ বেপারীর মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না। পরকীয়ার জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে।
ঘটনার পর থেকে জাহিদ বেপারীর বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। জাহিদকে হত্যার বিচারও চাইছেন তারা। জাহিদের তিন মেয়ে, মা ও স্ত্রীকে নিয়ে ৫ জনের সংসার ছিল। জাহিদ ছিলো পরিবারের উপার্জনের একমাত্র ব্যক্তি।
জাহিদ বেপারীর বড় মেয়ে ফারিহা আক্তার তার বাবাকে আ.লীগের একজন কর্মী দাবি করে জানান, তার বাবা একসময় আ. লীগের মিছিল-মিটিংয়ে যেতেন। তবে কখনো কারও কোনো ক্ষতি করেননি। এ জন্য এলাকার অনেকেই পালিয়ে গেলেও তার বাবা গ্রামেই ছিলেন।
ফারিহা জানান, তার বাবা একজন দিনমজুর ছিলেন। দিনমজুরি করে যা পেতেন, তা দিয়ে তাদের পাঁচজনের সংসার চালাতেন। কোনো কারণ ছাড়াই ফরিদ তার বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন। তারা ফরিদকে গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরান হোসেন বলেন, ‘‘রাত ১২টার দিকে পুলিশ জাহিদ বেপারীর মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারে। পরবর্তীতে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।’’
তিনি বলেন, ‘‘এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









