ইউরোপের বিভিন্ন দেশের অন্তত ১৫টি যাত্রীবাহী বিমানে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে এসব হুমকির ঘটনায় কয়েকটি বিমানকে নির্ধারিত গন্তব্যের পরিবর্তে অন্য বিমানবন্দরে অবতরণ করতে হয়েছে। এতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিমান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন থেকে ইতালির রোমগামী অ্যার লিঙ্গাসের ইআই৪০২ ফ্লাইটটি বোমা হামলার হুমকির পর ফ্রান্সের নরম্যান্ডি অঞ্চলের এভরু সামরিক বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। বিমানটিতে ১৫১ জন যাত্রী ও ছয়জন ক্রু ছিলেন। অবতরণের পর নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে বিমানটি পরীক্ষা করে দেখার জন্য বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল মোতায়েন করা হয়।
অ্যার লিঙ্গাস কর্তৃপক্ষ জানায়, নিরাপত্তাজনিত সতর্কতা হিসেবে বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছিল। বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া লন্ডন, মাদ্রিদ ও কোপেনহেগেন থেকে বুলগেরিয়াগামী রায়ানএয়ারের তিনটি ফ্লাইটও হুমকির মুখে পড়ে। এর মধ্যে লন্ডন থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি বিমান বুলগেরিয়ার সোফিয়ার পরিবর্তে প্লভদিভ বিমানবন্দরে অবতরণ করে। অন্য দুটি বিমান সোফিয়ায় অবতরণ করে।
পোল্যান্ডের ওয়ারশ থেকে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসগামী লট পোলিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটেও বোমার হুমকি দেওয়া হয়। তবে বিমানটি নিরাপদে ব্রাসেলস বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরবর্তী তল্লাশিতে কোনো সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইতালির মিলান থেকে পোল্যান্ডের ওয়ারশগামী উইজ এয়ারের একটি বিমান অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অবতরণ করে। ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কি থেকে রোম ও ভিয়েনাগামী ফিনএয়ারের দুটি ফ্লাইটও বোমা হামলার হুমকির মুখে পড়ে। তবে বিমান দুটি নির্ধারিত গন্তব্যে নিরাপদে অবতরণ করে।
এ ছাড়া প্রাগগামী চারটি বিমানে বিস্ফোরক থাকার হুমকি পাওয়ার পর সেগুলো পরীক্ষা করে দেখে চেক পুলিশ। তল্লাশিতে কোনো বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি। রোমানিয়া ও ইতালিগামী আরও কয়েকটি ফ্লাইটও একই ধরনের হুমকির মুখে পড়ে।
বুলগেরিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে অবতরণ করা তিনটি রায়ানএয়ারের বিমানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হয়েছে। তবে কোনো ধরনের ঝুঁকি বা সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। দেশটির বিমানবন্দরগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমও পরে পুনরায় চালু হয়।
ফিনএয়ার কর্তৃপক্ষও তাদের দুটি ফ্লাইটের বিরুদ্ধে আসা হুমকিকে ভিত্তিহীন বা ভুয়া বলে জানিয়েছে। রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তা যাচাই শেষে কোনো হুমকির সত্যতা পাওয়া যায়নি এবং বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি।
এর আগে চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবারও ইউরোপের অন্তত সাতটি যাত্রীবাহী বিমানে একই ধরনের বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ওই ঘটনায় কয়েকটি বিমানকে অন্য বিমানবন্দরে অবতরণ করতে হয় এবং বিভিন্ন বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হয়। পরে সেসব বিমানের তল্লাশিতেও কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।
পরপর কয়েক দিনের ব্যবধানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিমানগুলোতে এ ধরনের হুমকির ঘটনায় এর পেছনে কোনো সমন্বিত তৎপরতা রয়েছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা ও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিটি হুমকিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রচলিত নিরাপত্তা প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









