জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) বরগুনা কার্যালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত যৌথ অভিযানে বরগুনায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ গলদা ও বাগদা চিংড়ির রেনুপোনা জব্দ করেছে প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। পরে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় উদ্ধার করা রেনুপোনাগুলো বিষখালী নদীতে অবমুক্ত করা হয়।
শুক্রবার (২২ মে) ভোররাতে বরগুনা সদর উপজেলার বড়ইতলা ফেরিঘাট এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দুটি ট্রাক থেকে ২২৭টি ড্রামে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ রেনুপোনা উদ্ধার করা হয়।
জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, জব্দ করা রেনুপোনার পরিমাণ প্রায় ২২ থেকে ২৫ লাখ। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৭০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা। উদ্ধার অভিযানের পর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও এনডিসি সাইফুল ইসলামের উপস্থিতিতে রেনুপোনাগুলো বিষখালী নদীতে অবমুক্ত করা হয়।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব রেনুপোনা নদী থেকে অবৈধভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে সংগ্রহ করা হয়েছে। পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষার স্বার্থে সেগুলো নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রাকৃতিক উৎস থেকে চিংড়ির রেনুপোনা আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একটি চিংড়ি পোনা সংগ্রহের সময় প্রায় ৪৯৮টি অন্যান্য মাছ ও জলজ প্রাণীর পোনা ধ্বংস হয়। ফলে এটি নদীর জীববৈচিত্র্য ও ভবিষ্যৎ মৎস্যসম্পদের জন্য বড় হুমকি তৈরি করে।”
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া এলাকায় সরকারি অনুমোদিত দুটি চিংড়ি হ্যাচারি রয়েছে। তবে জব্দ করা রেনুপোনার ক্ষেত্রে কোনো বৈধ হ্যাচারির লাইসেন্স বা তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযানে মূল হোতাদের আটক করা সম্ভব না হলেও দুই ট্রাকচালককে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে রেনুপোনা পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রকে শনাক্ত করতে গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম বলেন, “সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যারা অবৈধভাবে রেনুপোনা আহরণ, সংরক্ষণ ও পরিবহন করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদী ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









