লালমনিরহাটের পাটগ্রামের দহগ্রাম ইউনিয়নের তিনবিঘা করিডোর সীমান্তের শূন্যরেখায় বাঁশের খুঁটি স্হাপন ও বিজিবি-বিএসএফ এর মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনার ঘটনায় উভয় বাহিনীর ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) বেলা ১১ টা থেকে দুপুর ১২ টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত পানবাড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ৮১২ নম্বর মেইন পিলারের নিকট ভারতের অভ্যন্তরে তিনবিঘা করিডোর এলাকায় এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
দেড় ঘন্টা ধরে চলা এ বৈঠকে ৫১-বিজিবি রংপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান এবং ভারতীয় ১৭৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বিনোদ কুমার উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বিজিবি জানায়, ১৯৪৭ সালের সীমান্ত আইন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো ধরনের স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। অথচ বিএসএফ সার্ভেয়ারদের মাধ্যমে শূন্য লাইনের ৫০ গজের মধ্যে বাঁশের খুঁটি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা সীমান্ত আইনের পরিপন্থী।
বিজিবি আরও জানায়, ভারতের অভ্যন্তরে জমি অধিগ্রহণে বাংলাদেশের কোনো আপত্তি নেই। তবে, সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ১৫০ গজের মধ্যে কোনো কাঁটাতারের বেড়া বা স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না।
জবাবে ভারতীয় বিএসএফ জানান, সীমান্তবর্তী জমি অধিগ্রহণের উদ্দেশ্যে সার্ভেয়ারদের মাধ্যমে জমি মাপজোকের কাজ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশি কিছু কৃষক ভারতীয় ভূখণ্ডের ধান ও ভুট্টা কেটে নিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে ভারতীয় নাগরিকরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
বিজিবি অধিনায়ক বলেন, এখন পর্যন্ত এ সীমান্ত দিয়ে কোনো পুশইনের ঘটনা ঘটেনি। আশা করছি ভবিষ্যতেও এমন কিছু হবে। তবে, যদি কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ভারতের অভ্যন্তরে আটক হয়,পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানাই।
এসময় বিএসএফ অধিনায়কও সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে উভয় দেশের নাগরিকদের স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ থেকে বিরত রাখতে সচেষ্ট থাকার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও কোনো ধরনের পুশইন করা হবে না বলেও উল্লেখ করেন।
এদিকে, উত্তেজনার খবর পেয়ে তিনবিঘা করিডোরে ভারতের সাংবাদিকদের মুখোমুখি প্রশ্নে পশ্চিমবঙ্গের মেখলিগঞ্জের বিধায়ক দধিরাম রায় বলেন, সীমান্ত আইন বা বাংলাদেশের আপত্তি যাই থাক না কেন, ভারতের কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ বন্ধ হবে না।
বৈঠকে বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডারদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পরে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পতাকা বৈঠক শেষ হয়। বর্তমানে ঐ সীমান্তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









