পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ যেন এবার ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বরিশাল নগরীজুড়ে। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে হাজারো মানুষ ভিড় করেন নগরীর জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে।
শুক্রবার (২৯ মে) ঈদের দ্বিতীয় দিন সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন পার্ক, বিনোদন কেন্দ্র, দর্শনীয় স্থান ও নদীপাড়ে ছিল মানুষের উপচেপড়া ভিড়।
ঈদের ছুটিতে কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলে একটু নির্মল আনন্দ আর স্বজনদের সঙ্গে কিছু সুন্দর সময় কাটাতে নগরী ও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে মানুষ ছুটে আসেন এসব স্থানে। শিশুদের হাসি, তরুণদের উচ্ছ্বাস আর পরিবারগুলোর আনন্দঘন উপস্থিতিতে দিনভর উৎসবের নগরীতে পরিণত হয় বরিশাল।
নগরী ঘেঁষা কীর্তনখোলা নদীর মনোরম তীর, বেলস পার্ক, প্ল্যানেট ওয়ার্ল্ড, দুর্গাসাগর দিঘী, গুঠিয়া মসজিদ, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, স্বাধীনতা পার্ক এবং সিটি পার্কসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে দুপুরের পর থেকেই বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এসব স্থানে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না।
বিশেষ করে শিশুকিশোরদের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্ল্যানেট ওয়ার্ল্ড। বিভিন্ন রাইডে চড়তে শিশু ও অভিভাবকদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। ঈদের আনন্দে মেতে ওঠা শিশুদের কোলাহলে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘‘ঈদের ছুটিতে বানারীপাড়ার বাড়িতে এসেছি। ছেলে-মেয়েদের নিয়ে প্ল্যানেট ওয়ার্ল্ডে ঘুরতে এসেছি। তারা বিভিন্ন রাইডে চড়ছে, খুব আনন্দ করছে। সন্তানদের আনন্দ দেখেই আমাদের ঈদ পূর্ণতা পায়।’’
অন্যদিকে আলেকান্দা এলাকার বাসিন্দা লামিয়া আক্তার বলেন, ‘‘ঈদের প্রথম দিনই বেলস পার্কে ঘুরতে এসেছিলাম। ভেবেছিলাম দ্বিতীয় দিনে হয়তো আরও বেশি ভিড় হবে না। কিন্তু আজকের ভিড় দেখে মনে হচ্ছে পুরো নগরী যেন আনন্দ উদযাপনে নেমেছে। বিকেলে বন্ধুদের নিয়ে নদীর পাড়েও ঘুরতে যাব।’’
সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা আরিফ হোসেন বলেন, ‘‘ঈদের প্রথম দিন কোরবানি ও আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। আজ সন্তানদের আবদারে তাদের নিয়ে কীর্তনখোলা নদীর পাড়ে এসেছি। নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করছি, পরে প্ল্যানেট ওয়ার্ল্ডে গিয়ে শিশুদের রাইডে চড়াবো। পরিবার নিয়ে এমন সময় কাটানো সত্যিই দারুণ অনুভূতি।’’
এদিকে কীর্তনখোলা নদীর পাড়ে দেখা যায় ভিন্ন এক চিত্র। কেউ পরিবার নিয়ে নদীর শীতল বাতাস উপভোগ করছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ আড্ডায় মেতে উঠেছেন। নদীর পাড়জুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ফুচকা, চটপটি, মোমো, আইসক্রিম ও বিভিন্ন খাবারের দোকানগুলোতেও ছিল উপচেপড়া ভিড়।
ঈদকে ঘিরে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশ, গোয়েন্দা সদস্য এবং সাদা পোশাকে নিরাপত্তা কর্মীদের টহল দিতে দেখা গেছে।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, ‘‘ঈদ উপলক্ষে নগরীর প্রতিটি বিনোদনকেন্দ্রে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
ঈদের দ্বিতীয় দিনে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি, শিশুদের উচ্ছ্বাস, পরিবারের মিলনমেলা এবং নদীর পাড়ের প্রাণবন্ত পরিবেশ মিলিয়ে বরিশাল যেন পরিণত হয়েছে এক আনন্দনগরীতে। কোরবানির ঈদের ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি পারিবারিক বন্ধন, সম্প্রীতি ও আনন্দ উদযাপনের এক অনন্য দৃশ্য ফুটে উঠেছে নগরীর প্রতিটি বিনোদন কেন্দ্রে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









