বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ বিরোধের জেরে শাকিল (২৫) নামে এক যুবককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার চরগোপালপুর ইউনিয়নের জালিরচর গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঘাতক সাইফুল (২৩) নামে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
নিহত শাকিল জালিরচর গ্রামের শাহাজান পন্ডিতের ছেলে। অন্যদিকে অভিযুক্ত সাইফুল একই গ্রামের আলম মাতুব্বরের ছেলে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে পন্ডিত বাড়ির সামনে একটি পুরোনো কাচারি ঘরে বসে শাকিল ও সাইফুল একসঙ্গে লুডু খেলছিলেন। খেলার একপর্যায়ে গুটি চালা ও হার-জিত নিয়ে দুজনের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
এরই একপর্যায়ে চরম উত্তেজিত হয়ে সাইফুল তার সঙ্গে থাকা লোহার হাতুড়ি দিয়ে শাকিলের মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। হাতুড়ির উপর্যুপরি আঘাতে শাকিল রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সাইফুল ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা শাকিলকে উদ্ধার করে দ্রুত মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শাকিলের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ধাওয়া করে ঘাতক সাইফুলকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
হত্যাকাণ্ডের শিকার শাকিল ও ঘাতক সাইফুল ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল তালুকদার। তিনি বলেন, নিহত শাকিল ও সাইফুল দুজনে সবসময় একসাথে চলাফেরা করতেন। এলাকায় তারা দুজনেই মাদকের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আজ একসাথে লুডু খেলার সময় কথা-কাটাকাটির জেরে সাইফুল এই কাণ্ড ঘটায়। গুরুতর আহত অবস্থায় শাকিলকে প্রথমে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উপজেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। আমাদের ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাদক সংশ্লিষ্ট কোনো বিরোধও থাকতে পারে।
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমরানুল হক জানান, শাকিল নামের ওই যুবককে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। মরদেহের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য মরদেহ বর্তমানে পুলিশ প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মেহেন্দিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিন উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনগণের সহায়তায় মূল অভিযুক্ত সাইফুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা মাদক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









