পরিবারের জন্য রাতের খাবার প্রস্তুত করছিলেন রোজিনা আক্তার (৩০)। কিন্তু রান্না শেষ হওয়ার আগেই নেমে আসে নিয়তির নির্মম পরিহাস। হঠাৎ ধসে পড়া পাহাড়ের নিচে চাপা পড়ে কেড়ে নিল তাঁর প্রাণ। শনিবার (১১ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের পূর্ব কলাতলী ১ নম্বর ওয়ার্ডের ঝিরঝিরি পাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত রোজিনা আক্তার ওই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মুজিবের স্ত্রী এবং সুলতান আহমদের মেয়ে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রাতে নিজের বাড়ির রান্নাঘরে কাজ করছিলেন রোজিনা। এ সময় পাশের পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে সরাসরি রান্নাঘরের ওপর এসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে মাটি ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন তিনি। এ সময় তাঁর তিন সন্তান পাশের এক আত্মীয়ের বাড়িতে থাকায় তারা অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যায়।
পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় এক ঘণ্টার অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোজিনাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই মৃত্যুকে স্রেফ দুর্ঘটনা মানতে নারাজ নিহতের পরিবার। নিহতের ভাই অভিযোগ করে বলেন, "প্রায় ৫০ বছর ধরে আমরা এই এলাকায় বসবাস করছি। আমাদের বাড়ির ওপরের অংশে দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যক্তি অবৈধভাবে পাহাড় কাটছিল। সেই কাটা পাহাড় ধসেই আমার বোনের মৃত্যু হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা চাই।"
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত ৮ দিনের অবিরাম বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে পড়েছিল। এর সঙ্গে দীর্ঘদিনের অবৈধ পাহাড় কাটার কারণে পাহাড়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত সেই অবহেলাই কেড়ে নিল একটি তাজা প্রাণ। তাদের অভিযোগ, কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় বছরের পর বছর অবৈধভাবে পাহাড় কাটা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ধসে প্রাণহানি ঘটছে। জেলাজুড়ে বন্যা ও পাহাড় ধসে এ পর্যন্ত নারী, শিশু ও রোহিঙ্গাসহ ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, "ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পদক্ষেপ নিয়েছে। পাহাড় কাটার অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









