সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাস্তব চিত্র জানতে বরিশালের গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি বিভিন্ন পরিবারের অভিজ্ঞতা, আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন এবং ফ্যামিলি কার্ডের সুফল সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। উপকারভোগীরা জানান, এই কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের সংসারে স্বস্তি ফিরেছে, সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে তারা এখন অনেকটাই সক্ষম হচ্ছেন।
সোমবার (১৩জুলাই) সকালে গৌরনদী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাটাজোড় অশ্বিনী কুমার ইনস্টিটিউশন মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
মতবিনিময় পর্বে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত উপকারভোগী নারীদের মধ্যে থেকে কয়েকজনকে নির্বাচন করে তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তিনি জানতে চান, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার পর তাদের জীবনে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে এবং কর্মসূচিটি কতটা কার্যকর হয়েছে।
সরিকল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পারুল আক্তার নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার আগে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালানোই ছিল কঠিন। সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যয় বহন করতে হিমশিম খেতে হতো, অনেক সময় দুবেলা খাবারের ব্যবস্থাও করা সম্ভব হতো না। তবে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার পর সেই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেটি বাস্তবে রূপ নিতে দেখেছি। ভোট দেওয়ার পর হাতের কালি মোছার আগেই আমরা ফ্যামিলি কার্ড হাতে পেয়েছি। দেশের প্রথম দিকের উপকারভোগীদের একজন হতে পেরে আমরা নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করছি।
নিজের বক্তব্যের একপর্যায়ে পারুল আক্তার ভাঙা থেকে বরিশাল পর্যন্ত ছয় লেন মহাসড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়ে বলেন, এই সড়ক বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
পরে আরেক নারী উপকারভোগী প্রধানমন্ত্রীকে জানান, তার পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত ওষুধ কিনতে প্রতি মাসে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়। ফ্যামিলি কার্ডের সহায়তা দিয়ে এখন ওষুধ কেনার পাশাপাশি হাঁস-মুরগি পালন শুরু করেছেন, যা পরিবারের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে।
আরেক উপকারভোগী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া অর্থ দিয়ে তিনি সন্তানের পড়াশোনার ব্যয় বহন করছেন। একই সঙ্গে সংসারের অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচও কিছুটা সহজে মেটাতে পারছেন।
উপকারভোগীদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সরকারের লক্ষ্য কেবল আর্থিক সহায়তা দেওয়া নয়; বরং প্রতিটি পরিবারকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলা এবং নারীদের অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়া। তিনি জানান, নারীর হাতে অর্থনৈতিক সক্ষমতা পৌঁছে দিলে পরিবার ও সমাজ, উভয়ই উপকৃত হয়।
তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা হচ্ছে। সরকার এ কর্মসূচি ধাপে ধাপে দেশের আরও বেশি পরিবারের কাছে সম্প্রসারণ করবে।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী বাটাজোড়-সরিকল খালের পাড়ে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি ফ্যামিলি কার্ড উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন এবং তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে সকাল থেকেই গৌরনদীতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিসহ বিপুলসংখ্যক ফ্যামিলি কার্ডধারী পরিবার উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









