পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় নাগরিক সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এতে প্রতিটি নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি সেগুলোর পরিচর্যা এবং নদী-খালসহ প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি সংলগ্ন সাগরদী খালের দুই পাড়ে একযোগে প্রায় সাড়ে তিনশ' গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে জনগণের ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন, সব ক্ষেত্রেই ধর্ম, বর্ণ ও পেশা নির্বিশেষে মানুষ একসঙ্গে দেশের জন্য সংগ্রাম করেছে।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “ধর্ম-বর্ণের বিভেদ ভুলে আমরা সবাই মিলে এই দেশ স্বাধীন করেছি। অল্প কিছুদিন আগেও দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। সেই ঐক্যের শক্তিকে এখন দেশের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। আমরা যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করি, তাহলে উপকৃত হবে পুরো বাংলাদেশ।”
বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ গাছ লাগিয়ে ছবি তুলে চলে গেলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। যে গাছ রোপণ করা হয়েছে, সেটিকে বড় করে তোলার দায়িত্বও আমাদের। স্থানীয় বাসিন্দারা যদি আন্তরিকভাবে গাছগুলোর পরিচর্যা করেন, তাহলে কয়েক বছর পর এই গাছই ছায়া, বিশুদ্ধ বাতাস এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
সাগরদী খালের পরিচ্ছন্নতা রক্ষার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই খাল সংরক্ষণ শুধু বরিশাল সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়; এর দুই পাড়ে বসবাসকারী প্রত্যেক মানুষেরও সমান দায়িত্ব রয়েছে।”
তিনি স্থানীয়দের উদ্দেশে বলেন, “খালে যেন কেউ পলিথিন, প্লাস্টিক, বোতল বা অন্য কোনো বর্জ্য না ফেলে। আপনারা নিজেরা যেমন ফেলবেন না, তেমনি অন্যদেরও নিরুৎসাহিত করবেন। পরিবেশ রক্ষার কাজ সরকার একা করতে পারবে না, এতে জনগণের অংশগ্রহণই সবচেয়ে বড় শক্তি”
একই সঙ্গে সিটি করপোরেশনকে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শহরের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত ডাস্টবিন যথাযথভাবে ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত করতে হবে, যাতে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য খাল-নদীতে না গিয়ে নির্ধারিত স্থানে ফেলা হয়।
সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে গাছের চারা রোপণ করেন। পরে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ একযোগে সাগরদী খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির সাড়ে তিনশ' গাছের চারা রোপণ করেন।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরওয়ার, বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আজকের এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে আমরা যেন একটি দিনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রাখি। আসুন, সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার করি। একটি সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হোক আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









