সদ্য ঘোষিত বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে নতুন করে দেখা দিয়েছে বিতর্ক। দলের একাংশের নেতারা অভিযোগ করেছেন, নতুন কমিটিতে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে কমিটি বিলুপ্ত করে যোগ্য ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতাদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম সাবু।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “২০২২ সালে নুরুল আমিনকে আহ্বায়ক করে গঠিত সদর উপজেলা বিএনপির কমিটি দলীয়ভাবে বিতর্কিত হওয়ায় পরবর্তীতে সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে তা বিলুপ্ত করা হয়েছিল। পরে নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়, যা বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে বলে তিনি দাবি করেন।”
তার অভিযোগ, “জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলীয় নেতাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই পুনরায় নুরুল আমিনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ওই কমিটি জেলা বিএনপির সঙ্গে সমন্বয় ছাড়াই গত ১২ জুলাই ১৬১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করিয়ে আনে।”
জিয়াউল ইসলাম সাবুর দাবি, নতুন কমিটিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা ত্যাগী নেতাদের উপেক্ষা করা হয়েছে। পরিবর্তে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত, বিতর্কিত ব্যক্তি এবং বিএনপির আদর্শের বাইরে থাকা কয়েকজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, নতুন কমিটির সদস্য তালিকায় কয়েক মাস আগে মারা যাওয়া একজন ব্যক্তির নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এবং দলটির নেতাদের সমর্থনকারী কয়েকজনকেও কমিটিতে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন বক্তারা।
আহ্বায়ক নুরুল আমিনকে নিয়েও একাধিক অভিযোগ তোলেন জিয়াউল ইসলাম সাবু। তার দাবি, নুরুল আমিন অতীতে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পরও জামায়াত পরিচালিত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি গোপনে দলীয় আদর্শের পরিপন্থী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি অভিযোগগুলো তদন্ত করে বিতর্কিত কমিটি বাতিল এবং নতুন করে কমিটি গঠনের দাবি জানান। একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণারও হুঁশিয়ারি দেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আমিন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
নুরুল আমিনের দাবি, “কমিটি গঠনের আগে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে সদস্যদের তালিকা পাঠানো হয় এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে কেন্দ্রীয় বিএনপি কমিটির অনুমোদন দিয়েছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়াচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।”
এদিকে, নতুন কমিটি ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









