বরিশালের উন্নয়নের বঞ্চনা ও সরকারের দ্বিমুখী নীতি নিয়ে গর্জে উঠলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, বরিশালকে বঞ্চিত করে কোনো সুষম উন্নয়ন সম্ভব নয়। সময় থাকতে সংশোধন হয়ে যান, অন্যথায় জনতার উত্তাল রোষে সব পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বরিশাল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বরিশালের নাজুক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ঢাকা থেকে ভাঙা পর্যন্ত রাস্তা চমৎকার, কিন্তু বরিশালের প্রবেশপথ যেন বঙ্গোপসাগরের পানির ঢেউ। মাত্র দুই লেনের এই সরু রাস্তায় বিভাগীয় শহরের মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বরিশালবাসীর প্রাণের দাবি ৬ লেনের মহাসড়ক কেন হচ্ছে না? সরকার ও স্থানীয় এমপিরা কেন এ নিয়ে জোরালো আওয়াজ তুলছেন না?”
ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ‘ভোলা-বরিশাল ব্রিজ’ এখনো একনেকে অনুমোদিত না হওয়ায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। এছাড়া রেললাইন থেকে বঞ্চিত বরিশালবাসীর অধিকারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বরিশালবাসী রেল লাইনের গল্পই শুনেছে, বাস্তবে দেখেনি। এখানে রেললাইন দিতেই হবে। বঞ্চনার বিরুদ্ধে আমরা প্রতিটি পদক্ষেপে আওয়াজ তুলব।
বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, “গণভোটের মাধ্যমে জনগণ জানিয়ে দিয়েছে তারা অতীতের পচা রাজনীতি ও শাসন ব্যবস্থা থেকে মুক্তি চায়। সরকার কথা দিয়েছিল গণভোটের রায় অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে, কিন্তু এখন তারা নিজেরাই সংস্কারের কথা অস্বীকার করছে। সংসদের ভেতরে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের নামে প্রহসন চলছে। আমরা এটাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করি।”
তিনি আরো বলেন, জনগণের সাথে আর কত ছলচাতুরি করবেন? পদে পদে মিথ্যা ও ধোকা দেওয়া বন্ধ করুন। মনে রাখবেন, আসল ফ্যাসিবাদকে দেশের মানুষ পাত্তা দেয়নি, আর আপনারা তো ‘ডামি ফ্যাসিবাদ’। ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকুন। গণভোটের রায় মানা না হলে এই সরকারকেও জনগণ মানবে না।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৭১ আমাদের গৌরবের ইতিহাস, আর ২৪ আমাদের সাহসের প্রতীক। ২৪ এর মর্যাদা ঢাকতে কেন ৭১ কে সামনে আনছেন? ৭১ তার নিজস্ব মর্যাদায় থাকবে, আর ২৪ থাকবে তার বীরত্বে। এই ২৪ এর বীরদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মান দিতে হবে, কোনো অবহেলা বরদাশত করা হবে না।
বক্তব্যে জামায়াতের আমীর আরো যোগ করে বলেন, “আমরা এই সরকারকে গণতন্ত্রের শত্রু বলতে চাই না। বৈষম্য দূর করতেই জুলাই হয়েছে, কিন্তু সরকার আবার বৈষম্য ও নতুন নতুন ট্যাক্সের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ডে আড়াই হাজার টাকা দিয়ে ৫ হাজার টাকার দাম বৃদ্ধি সামলানো যায় না।”
সমাবেশে তিনি সরকারের উদ্দেশে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা রাজপথে থাকতে চাই না, আমরা দেশ গড়তে চাই। কিন্তু আপনারা আমাদের ধাক্কা দিয়ে রাজপথের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। রাজপথ যদি জ্বলে ওঠে, তবে সেই আগুনে অনেক কিছুই পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। নতুন প্রজন্মের আর পরীক্ষা নেবেন না; এরা পরীক্ষিত, বিজয়ী ও বীর।”
দীর্ঘদিনের লড়াই, আয়নাঘরের যন্ত্রণা এবং ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “মানুষ ফ্যাসিবাদের কাছে মাথা নত করেনি, এই প্রজন্মের কাছেও কেউ মাথা নত করাবে না। সময় থাকতে জনকল্যাণমূলক পথে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি সমাবেশ শেষ করেন।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









