গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন, জুলাই সনদ কার্যকর, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির লাগাম টেনে ধরা এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিবাদে বরিশালে গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতারা বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে রাষ্ট্রীয় সংস্কার, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জুলাই সনদের বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে জামায়াতে ইসলামী, বরিশাল মহানগরের উদ্যোগে নগরীর টাউন হল চত্বরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখান থেকে একটি গণমিছিল বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, ‘‘দীর্ঘ সময়ের স্বৈরশাসনের অবসানে ছাত্র-জনতা, তরুণ, শ্রমিক, কৃষক ও সর্বস্তরের মানুষ যে আত্মত্যাগ করেছেন, তার মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। কিন্তু জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন রাষ্ট্র পরিচালনায় দৃশ্যমান না হলে তা শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হবে।’’
তিনি বলেন, ‘‘জনগণ রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার, ন্যায়বিচার এবং নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই প্রত্যাশা পূরণে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।’’
প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে জনগণের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।’’ পাশাপাশি জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘জনগণের ভাষা ও প্রত্যাশার প্রতি সম্মান দেখিয়ে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে রাজনৈতিক সমাধানের পথে এগোতে হবে। বিরোধী দলগুলোর গঠনমূলক মতামত বিবেচনায় নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।’’ জনগণের রায় উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে সফল হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলেন, ‘‘দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি ঘটাতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।’’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে জুলাইযোদ্ধাদের ওপর হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক।’’
এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, তা না হলে সংশ্লিষ্টদের নৈতিক দায় এড়ানোর সুযোগ থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘‘বর্তমান বাস্তবতায় ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন অপরিহার্য। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সনদের প্রতিটি ধারা বাস্তবায়নে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।’’ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মতিউর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও বরিশাল জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল জব্বার। এছাড়া বক্তব্য দেন মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার মিজানুর রহমান ও মুহাম্মদ আতিকুল্লাহ, কর্মপরিষদ সদস্য শামীম কবির এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও বরিশাল মহানগর সভাপতি আতিকুল ইসলাম।
সমাবেশে মহানগর জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ছাড়াও বিপুলসংখ্যক সমর্থক ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। বক্তারা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই সনদ কার্যকর, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে টাউন হল চত্বর থেকে বের হওয়া গণমিছিলটি সদর রোড, ফজলুল হক অ্যাভিনিউ, গির্জা মহল্লাসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় টাউন হল চত্বরে এসে শেষ হয়। মিছিলজুড়ে অংশগ্রহণকারীরা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই সনদ কার্যকর এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









