পিরোজপুরের নেছারাবাদে আওয়ামী লীগের ১৫ আগস্টের শোক দিবসের পোস্টার লাগানো এবং সরকারবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. জিয়াউদ্দীন তাওহীদ (৫৫) নামে একব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ৮ নং সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের শশিদ গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার জিয়াউদ্দীন তাওহীদ ওই গ্রামের মৃত ওয়ারেস উদ্দীনের ছেলে। তিনি নিজেকে সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও টকশো ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচয় দেন। ‘ভিলেজ ভয়েস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বলেও তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১৫ আগস্টের শোক দিবসের পোস্টার দেখা যায়। পোস্টারে ঢাকা দক্ষিণ শ্যামপুর থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদধারী সাগর মন্ডলের ছবি এবং তার ওপরে জিয়াউদ্দীন তাওহীদের ছবিও রয়েছে।
তবে পোস্টার লাগানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জিয়া উদ্দীন তাওহীদ জানান, তিনি অসুস্থ এবং বাড়িতেই থাকেন। সাংবাদিক ও টকশো ব্যক্তিত্ব হিসেবে কাজ করেন। কে বা কারা পোস্টারগুলো সাঁটিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
সমুদয়কাটি ইউনিয়ন যুবদল নেতা রিয়াজুল কবির বলেন, ‘‘৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে জিয়াউদ্দীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে সরব ছিলেন। বিগত দিনে তিনি ঢাকায় অবস্থান করতেন পাঁচই আগস্ট পরবর্তী সময় তিনি নিজ গ্রামে অবস্থান করছিলেন এবং ফেসবুক লাইভে এসে তিনি সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা ও সরকারবিরোধী কথা বলতেন।’’
সমুদয়কাঠি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম অভিযোগ করে বলেন, ‘‘জিয়াউদ্দীন তাওহীদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ-সমর্থক হিসেবে কাজ করার অভিযোগ আছে। সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে তিনি বাড়িতে বসে আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগের পক্ষে বক্তব্য দিতেন। তার নেতৃত্বেই এসব পোস্টার লাগানো হয়েছে।’’
নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘‘পোস্টার লাগানোসহ সরকারবিরোধী কার্যক্রমের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









