শরীয়তপুরে পৃথক স্থানে প্রকাশ্যে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, কারাবন্দিদের মুক্তি এবং আওয়ামী লীগের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে জেলার নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার দুটি স্থানে এসব মিছিল অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নড়িয়া উপজেলার ডগ্রি এলাকায় ঢাকা-শরীয়তপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে জেলা আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। একই দিনে দুপুরে জাজিরা উপজেলার তালতলা এলাকাতেও আঞ্চলিক মহাসড়কে আরেকটি মিছিল বের করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পৃথক ভিডিওতে দেখা যায়, ডগ্রি এলাকায় সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান শিকদারের নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী মহাসড়কে মিছিল করছেন। এ সময় তাদের ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘আইতাছে রে আইতাছে, শেখের বেটি আইতাছে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
মিছিল চলাকালে মহাসড়কে ভ্যান, মোটরসাইকেল ও বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়। এতে কিছু সময়ের জন্য সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে, যা ভিডিওতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে, জাজিরার তালতলা এলাকায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের শরীয়তপুর জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুজ্জামান ওরফে ভুলু এবং সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান শিকদারের নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মীকে মহাসড়কে মিছিল করতে দেখা যায়।
মিছিলকারীরা সড়কের একাংশ দখল করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময় বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় একটি ‘শরীয়তপুর সুপার সার্ভিসের’ বাসসহ কয়েকটি যানবাহন সড়কে থেমে থাকতে দেখা যায়।
ভিডিওগুলোতে মিছিলের স্থান ও সময়ের বিষয়ে উল্লেখ থাকলেও কতক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে গত রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে শরীয়তপুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের কোটাপাড়া ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আরেকটি বিক্ষোভ মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে পাঁচ দিনের ব্যবধানে জেলায় প্রকাশ্যে সংগঠনটির একাধিক মিছিলের ঘটনা সামনে এলো।
ডগ্রি এলাকায় মিছিলের বিষয়ে জানতে চাইলে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, “পালং থানা এলাকায় ছাত্রলীগের কোনো মিছিল অনুষ্ঠিত হয়নি। আমাদের পুলিশ সদস্যরা মাঠেই ছিল।”
পরে তাকে মিছিলের ভিডিও দেখানো হলে তিনি বলেন, “জায়গাটি নড়িয়া থানার মধ্যে, ডগ্রি এলাকায়।”
এ বিষয়ে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, “এ ব্যাপারে আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।”
অন্যদিকে, জাজিরার তালতলা এলাকায় মিছিলের বিষয়ে জানতে চাইলে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ্ আহাম্মদ ঘটনাটি অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, “এ এলাকায় মিছিলের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমি নিজে ওই এলাকায় গিয়ে স্থানীয় অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি ও জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তারা কেউই মিছিলের বিষয়ে কিছু জানেন না। স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় কোনো মিছিল হয়নি।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই এলাকার নাম উল্লেখ করে মিছিলের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, “যারা ওই এলাকার নাম উল্লেখ করে এসব তথ্য ছড়াচ্ছেন, তারা কীসের ভিত্তিতে ছড়াচ্ছেন, সেটি তারাই বলতে পারবেন।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









