নোয়াখালীর হাতিয়ায় মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা জাগলার চরে বন বিভাগের জমি দখল, বন উজাড় এবং সরকারি জমির ‘দাগ’ বিক্রির নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাগলার চর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—হাতিয়ার সুখচর ইউনিয়নের উত্তর শূল্যকিয়া এলাকার মৃত আবুল খায়েরের ছেলে মো. এনায়েত হোসেন ওরফে এনায়েত খলিফা (৫৬) এবং চরকিং ইউনিয়নের কলাপাড়া এলাকার মৃত খবির উদ্দিনের ছেলে মো. রুবেল (৩০)।
পুলিশ ও বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুখচর সংলগ্ন মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা জাগলার চরের ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট-সংলগ্ন এলাকায় একটি চক্র অবৈধভাবে অবস্থান নেয়। অভিযোগ রয়েছে, তারা বন বিভাগের জমির গাছপালা কেটে জায়গা দখলের পাশাপাশি ভূমিহীন ও অসহায় মানুষকে সেখানে জমি দেওয়ার আশ্বাস দেয়।
কথিত এজেন্টদের মাধ্যমে বন বিভাগের জমির ‘দাগ’ বিক্রির কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। জমি পাওয়ার আশায় দরিদ্র মানুষজন টাকা দিলেও সরকারি বনভূমি ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি বা বন্দোবস্ত দেওয়ার কোনো বৈধ সুযোগ নেই।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা, হুমকি, অপরাধজনক বল প্রয়োগ ও হামলার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। পরে বন বিভাগের পক্ষ থেকে প্রায় ২০ জনকে আসামি করে হাতিয়া থানায় মামলা করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নতুন চর জেগে ওঠার পর থেকেই সেখানে জমি দখল ও কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে নানা তৎপরতা শুরু হয়। ভূমিহীন ও দরিদ্র মানুষের একটি অংশ জমি পাওয়ার আশায় বিভিন্ন ব্যক্তির কথায় টাকা দিয়েছেন। পরে জমির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় অনেকে বিপাকে পড়েছেন।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, সরকারি জমি দখল, সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা, হুমকি ও প্রতারণার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তদন্তে আরও কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বলেন, সরকারি বা বন বিভাগের জমি ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি কিংবা বন্দোবস্ত দেওয়ার নামে কেউ টাকা চাইলে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। এমন ঘটনার তথ্য প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









