শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দী ইউনিয়নের আবুরা গ্রামে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে রাসেল তালুকদার (৩২) নামে এক যুবকের শরীরে এসিডজাতীয় দ্রব্য নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাঁর বুকের বাঁ পাশ ও বাঁ হাত ঝলসে গেছে। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে তাঁকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে আবুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত রাসেল তালুকদার ওই গ্রামের গিয়াস উদ্দিন তালুকদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গিয়াস উদ্দিন তালুকদারের পরিবারের সঙ্গে চিকন্দী বাজার এলাকার মোসলেম উদ্দিন খানের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলা রয়েছে। সম্প্রতি মোসলেম উদ্দিনের পুত্রবধূ একটি ধর্ষণ মামলা করায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
এরই ধারাবাহিকতায় রোববার রাতে মোসলেম উদ্দিনের বাড়ির উঠানে রাসেল তালুকদার, তাঁর চাচাতো ভাই জুয়েল মাদবর ও ইকবালের সঙ্গে মোসলেম উদ্দিনের পরিবারের সদস্যদের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে রাসেলের শরীরে এসিডজাতীয় কোনো দ্রব্য নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে স্থানীয় লোকজন রাসেলকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল সূত্র জানায়, তাঁর বুকের বাঁ পাশ ও বাঁ হাত ঝলসে গেছে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়। ওই রাতেই তাঁকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পীযূষ দাস বলেন, ‘রোববার রাতে এক যুবক বুকের বাঁ পাশ ও বাঁ হাত ঝলসানো অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। তিনি ও তাঁর স্বজনেরা জানান, তাঁকে এসিড নিক্ষেপ করা হয়েছে। তবে পোড়ার ধরন দেখে এটি এসিড কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে পালং মডেল থানার অধীন চিকন্দী পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মামুন হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলের কাছ থেকে একটি বোতল উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছে।
এএসআই মামুন হোসেন বলেন, ‘মোসলেম উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে কিছু জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারি, রাসেল নামে একজনের শরীরে এসিডের মতো কোনো দ্রব্য নিক্ষেপ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের কাছ থেকে একটি বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। বোতলের ভেতরে দাহ্য পদার্থের মতো বস্তু দেখা গেছে।’
এ ঘটনায় উভয় পক্ষই পালং মডেল থানায় গিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে।
রাসেলের বাবা গিয়াস উদ্দিন তালুকদারের অভিযোগ, মোসলেম উদ্দিনের ছেলে আতিকুর রহমান লিমন তাঁর ছেলে ও দুই ভাতিজাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের মারধরের পর রাসেলের শরীরে এসিডজাতীয় দ্রব্য ঢেলে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে দেখি ছেলের অবস্থা খারাপ। পরে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোসলেম উদ্দিন। তাঁর দাবি, রাসেল দলবল নিয়ে তাঁর পুত্রবধূকে তুলে আনতে বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁকে মারধর এবং বাড়ির জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তাদের শরীরে কেউ এসিড নিক্ষেপ করেনি। আমাদের ফাঁসানোর জন্য এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হচ্ছে।’
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ‘চিকন্দী এলাকায় জমিজমা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের জেরে এক যুবকের ওপর এসিডজাতীয় দ্রব্য নিক্ষেপের কথা জানতে পেরেছি। দুই পক্ষই মৌখিকভাবে একে অপরকে দোষারোপ করে পুলিশকে জানিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









