বরগুনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পৃথক অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হানিট্র্যাপের মাধ্যমে প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগে একটি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ভুক্তভোগীর খোয়া যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত বরগুনা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান চালানো হয়। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে সদর উপজেলার গৌরিচন্না ইউনিয়নের পশ্চিম ধূপতি এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্বপন (২৮) ও তারেক (২৬) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ২১টি ইয়াবা বড়ি, মাদক বিক্রির ৬৪০ টাকা, মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ব্যাটারিচালিত মিশুক ও দুটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
এরপর রাত সাড়ে ৮টার দিকে কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের জাকিরতবক এলাকায় কাওসার স্টোরের সামনে সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালায় ডিবির আরেকটি দল। এ সময় রুবেল সিকদার (৩৪) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে ১ কেজি ৯০০ গ্রাম গাঁজা, ৯টি ইয়াবা বড়ি, একটি বাজাজ প্লাটিনা মোটরসাইকেল, দুটি মোবাইল ফোন ও একটি মানিব্যাগ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ৫২ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ছাড়া বরগুনা সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে হানিট্র্যাপ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে এক ভুক্তভোগীর খোয়া যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি চক্রটির প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় বরগুনা থানায় ১২ অক্টোবর একটি মামলা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, জাকিরতবক এলাকায় পৃথক চেকপোস্টে গাঁজাসহ আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে সামারি ট্রায়ালের জন্য আদালতে পাঠানোর কথা জানিয়েছে পুলিশ।
বরগুনা জেলা পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা, পিপিএম-সেবার নির্দেশনায় এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে ডিবির বিশেষ দল এসব অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানায়, বরগুনায় মাদক সরবরাহ, বিক্রি, পরিবহন ও মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জেলার বাইরে থেকে মাদক সরবরাহকারী ব্যক্তিদেরও আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মাদক ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ শনাক্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ায় জব্দ করার কার্যক্রমও চলছে।
মাদক, ব্ল্যাকমেইলিং ও প্রতারণা প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে জেলা পুলিশ। এ ধরনের অপরাধের তথ্য নিকটস্থ থানায় অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









