যশোরের বাঘারপাড়া ডিগ্রি কলেজের মাঠ ফুটবল খেলার উপযোগী করতে মেহগনি গাছের ডাল কাটার ঘটনায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত ও উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে গাছের ডাল কাটা হয়েছে। তবে এ দাবির সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পাঠানো কলেজের চিঠির বক্তব্যে অসংগতি পাওয়া গেছে। চিঠিতে অনুমতি পাওয়ার কথা উল্লেখ না করে সিদ্ধান্তের বিষয়টি অবহিত ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এতো মোটা মোটা লগ কেনো কাটা হয়েছে? এসব বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নেরও আশানুরূপ উত্তর দিতে পারেননি কলেজের অধ্যক্ষ।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেন বাঘারপাড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল মতিন। লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, নিয়ম মেনেই গাছের ডাল কাটা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি মহল মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে অধ্যক্ষ জানান, কলেজের খেলার মাঠে ফুটবল খেলা বিঘ্নিত হওয়ায় গত ৮ অক্টোবর গভর্নিং বডির সভায় ক্যাম্পাসের কয়েকটি গাছের ঝুঁকিপূর্ণ ও অতিরিক্ত ডাল কাটার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ১৫ অক্টোবর বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর থেকে অনুমতি নেওয়া হয়। ৩১ অক্টোবর গাছের ডাল কাটা হয়।
তবে কলেজ কর্তৃপক্ষের সরবরাহ করা নথিতে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। ২৬ অক্টোবর ইউএনওর কাছে পাঠানো চিঠিতে ৮ অক্টোবরের গভর্নিং বডির সভার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, কলেজের পরিবেশ, নিরাপত্তা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির স্বার্থে ক্যাম্পাসের কয়েকটি গাছের ঝুঁকিপূর্ণ অতিরিক্ত ডাল কাটার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের আওতাধীন হওয়ায় গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত ইউএনওকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। চিঠিতে দ্রুত ডাল কাটার কাজ সম্পন্ন করার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
অর্থাৎ, ২৬ অক্টোবরের চিঠিতে ডাল কাটার অনুমতি পাওয়ার কোনো তথ্য নেই। সেখানে শুধু সিদ্ধান্ত অবহিত করে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। অথচ অধ্যক্ষের দাবি, এর আগেই ১৫ অক্টোবর অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। তবে সংবাদ সম্মেলনে ওই অনুমতিপত্রের কোনো অনুলিপি সরবরাহ করা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকেরা ডাল কাটার অনুমতিপত্র, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট নথির বিষয়ে জানতে চান। তবে এসব প্রশ্নের সুস্পষ্ট ও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি অধ্যক্ষ। ফলে গাছের ডাল কাটার অনুমোদন ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে।
অধ্যক্ষ জানান, কাটা ডালপালা আগামী ৪ নভেম্বর গভর্নিং বডির সভায় উপস্থাপন করা হবে। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। কলেজ মাঠে ফুটবলসহ অন্যান্য খেলার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি মহল কৃত্রিম জটিলতা তৈরি করছে। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা বন্ধে সচেতন সমাজের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ আব্দুল মতিনসহ, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক জয়নাল আবেদী, শিক্ষক প্রতিনিধি আশরাফ আলী ও খালেদা পারভীন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









